আপেল মাহমুদ, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: নওগাঁর মান্দায় কৃষি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তা মোছা: শায়লা শারমিনের বিরুদ্ধে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ বাড়াতে সরকারের দেওয়া বরাদ্দের নয়-ছয়ের অভিযোগ করেন কৃষকরা।

সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৫০ জন কৃষককে বিনামূল্যে প্রণোদনা সামগ্রী ও পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করা হয়। সরকারি বরাদ্দের তালিকা অনুসারে, একজন কৃষক ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি এমওপি সার, ১০০ টাকার বালাইনাশক এবং জমি প্রস্তুতি, সেচ ও বাঁশের বেড়া তৈরিতে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন। সেই সঙ্গে ২ হাজার ১০০ টাকার পলিথিন ও ১৫০ টাকার সুতলি দেওয়ার কথা আছে।

অথচ তালিকার বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ পায়নি কৃষকরা- এমনই অভিযোগ তুলেন কৃষকরা। জেলা থেকে পাঠানো বরাদ্দকৃত তালিকার তথ্য গোপন করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন কৃষকদের তা প্রদান করেন নি।

অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পেয়ে কৃষি অফিস থেকে তালিকা সংগ্রহের পর সরেজমিনে উপজেলার প্রণোদনার তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছে গেলে দেখা যায়, বীজতলা তৈরিতে যে মানের দড়ি পলিথিন প্রয়োজন তা পায়নি কৃষক। একজন কৃষক যেখানে ২১০০ টাকার পলিথিন পাবে সেখানে এর বিপরীতে কৃষককে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ কেজি সাদা রঙের পাতলা পলিথিন। যার বর্তমান বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১৫০টাকা। গড়ে ৩ কেজি পলিথিনের মূল্য আসে ৪৫০ টাকা। একজন কৃষক ২ হাজার ১শত টাকার পলিথিনের বদলে পেয়েছেন মাত্র ৪৫০ টাকার পলিথিন। শুধুমাত্র পলিথিনে দুর্নীতি হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।

এছাড়া, একই ভাবে ১৫০ টাকা মূল্যে ১ কেজি সুতলির বদলে কৃষক পেয়েছেন হরিণ মার্কা ৩টি প্লাস্টিকের দড়ি যা ১ কেজিতে ৭টি ধরে মূল্য ৮২ টাকা। এক একটি দড়ির পাইকারি কয়েলের মূল্য মাত্র ১২ টাকা। যার ৩টি প্লাস্টিকের কয়েলের মূল্য দাঁড়ায় ৩৬ টাকা। এখানে বরাদ্দকৃত ১৫০ টাকার মধ্যে কৃষককে ১১৪ টাকা দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ ও পরিবহণ ব্যয়ের টাকা পায়নি কৃষক। এছাড়া সাংবাদিকদের কাছে তথ্য গোপন করে কৌশলে ২১০০ টাকার পলিথিনের জায়গাতে পলিথিনের পরিমান ১৫০ বর্গ মিটার হিসাবে প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তথ্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

মৈনম ইউপির আনিছুর রহমান, মান্দা ইউপির ওছমান আলী, কালিকাপুর ইউপির আশরাফুল ইসলাম, কুসুম্বা ইউপির আব্দুল করিম, নুরুল্যাবাদ ইউপির খুশি কুমার, সহ অন্যান্য সকল ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি এমওপি সার, ও থিমিড ৫০ মিলি একটি ওষুধের বোতল দেওয়া হয়েছে। সাথে বরাদ্দের অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়নি।

এছাড়া কেউ ১ কেজি সাড়ে ৭০০ গ্রাম এবার কেউ প্রায় ৩ কেজি পাতলা পলিথিন, তিনটি প্লাস্টিকের দড়ি ও ২৮০০টাকা পেয়েছেন। মোট পলিথিন বড়জোর ৪ থেকে ৫শত টাকার হবে। ভাল মানের দড়ি খুচরা বাজারে ১৫ টাকা পিচ হিসেবে ৩টি বান্ডিলের মূল্য সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা।

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন অনিয়মের বিষয়টি শিকার করে বলেন, অফিসের বিভিন্ন খরচ (চা নাস্তার) জন্য কৃষকদের পলিথিনে বরাদ্দকৃত ২ হাজার ১শত টাকা থেকে কিছু কেটে রাখা হয়েছে। কেটে রাখা টাকা গুলো সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই । খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ