ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
বান্দরবানের পার্বত্য উপজেলা আলীকদমে মিষ্টিকুমড়া চাষ স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের জীবনে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই ফসলে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ, সহজ পরিচর্যা পদ্ধতি এবং বাজারে স্থিতিশীল ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এটি চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার কুরুকপাতা, চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ের ঢাল এবং সমতল জমিতে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে ঘন সবুজ কুমড়ার লতা।
প্রতিটি গাছে গাছে ঝুলছে বড় আকারের পুষ্ট মিষ্টিকুমড়া, যা দেখে কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের লাভের চিত্র।

কুরুকপাতার বাসিন্দা রায় বাহাদুর ত্রিপুরা জানান, তিনি এ মৌসুমে প্রায় সাত কানি (স্থানীয় জমির পরিমাপ) জমিতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদ করেছেন। এতে তার সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিনি এক লাখ ৪০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছেন এবং মাঠে এখনো প্রচুর কুমড়া বিক্রির অপেক্ষায় আছে।
সব মিলিয়ে তিনি অন্তত ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।

আরেক কৃষক মংচাপাড়ার বাসিন্দা লালা মার্মা জানান, তিনি তিন কানি পাহাড়ি ঢালু জমিতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে কুমড়া চাষ করেন। এরই মধ্যে ৬১ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি শেষ করেছেন এবং আরও দুইবার ফসল তুলতে পারবেন। তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন, তবে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভের অঙ্ক কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষক রিদুয়ান ইসলাম জানান, মিষ্টিকুমড়া চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় যত্ন কম লাগে অথচ ফলন বেশ ভালো হয়। পাইকারি বাজারেও দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কুমড়া ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। এই সাফল্যের ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে কুমড়া চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তারা। স্থানীয় আড়তদার আবুল কালাম জানান, এবার আলীকদমে মিষ্টিকুমড়ার উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা মানসম্মত ফসল বাজারে এনেছেন।
স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও পাইকাররা এসে কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি মিষ্টিকুমড়া চাষের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। এ বছর প্রচুর পরিমাণে কুমড়ার আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মিষ্টিকুমড়া আলীকদমের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।