
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজবাড়ী সদর আর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার বিস্তির্ণ চরে বিভিন্ন জাতের টমেটোতে পচন রোগের সংক্রমণ শুরু হয়েছে।ফলে লোকসানের শঙ্কায় আছেন চাষীরা।
রবি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের বিউটি, বিপুল প্লাস, বিগল ও মিন্টু সুপাররের মতো টমেটো চাষ হয়। এবার বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে টমেটোর পচন রোগের আক্রমণ হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পচন প্রতিরোধে টমেটো ক্ষেতগুলোতে নিয়মিত ছত্রাক নাশক ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ দিচ্ছে।
সরোজমিনে সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এ বছর টমেটো ক্ষেতে পচন রোগ ধরায় অনেক টমেটো পচে যাচ্ছে। ফলে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে পচে যাওয়া টমেটো ফেলে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা গাছ থেকে পাকা টমেটো ছিড়ে ঝুঁড়িতে রাখছেন। পরে সেগুলো ভ্যানে করে বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন।
পড়তে পারেন: টমেটোর ৪ ধরণের রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থাপনা
সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এ বছর চার বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছেন। এক বিঘা জমিতে টমোটোর আবাদ করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমি থেকে ১০০ থেকে ১৫০ মণ টমেটো পাওয়া যায়। তবে পচন রোগ দেখা দেওয়ায় ফলন নিয়ে আশঙ্কায় আছেন তিনি।’
অপর কৃষক মন্তাজ শেখ জানান, অসময়ে বৃষ্টির কারণে টমেটো ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে গাছে থাকা অবস্থাতেই টমেটো পচে যাচ্ছে। রোগ ঠেকাতে ওষুধ স্প্রে করছি তবে তাতেও কাজ হচ্ছে না।
হালিমা খাতুন জানান, এ বছর তার বাবা তিন বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছেন। ফলও ভালো হয়েছে। শুরুতে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এই দাম পেলে লোকসানের হাত থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম শহীদ নূর আকবর জানান, টমেটো ক্ষেত্রের মাটি যদি সব সময় স্যাঁতস্যাঁতে থাকে ও ক্রমাগত মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করলে এবং বায়ু চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এ রোগের আক্রমণের আশঙ্কা বেশি। এটি একটি মারাত্মক রোগ। বীজে আক্রমণ হলে বীজ পচে যায়। বীজ অংকুরোদগমের পরেই প্রাথমিক পর্যায়ে চারা মারা যায় একে প্রিইমারজেন্স ড্যাম্পিং অফ বলে। পোস্ট-ইমারজেন্স ড্যাম্পিং অফের বেলায় চারার হাইপোকোটাইলের কর্টিক্যাল কোষ দ্রুত কুঁচকে যায় ও কালো হয়ে যায়।
পড়তে পারেন: রাতের আধারে ৩ হাজার ফলন্ত টমেটো গাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা
চারার কান্ড- মাটির কাছাকাছি পচে চিকন হয়ে যায়। কাণ্ডের গায়ে ছত্রাকের উপস্থিতি দেখা যায়। বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে; বীজ ৫২০ঈ তাপমাত্রায় গরম পানিতে ৩০ মিনিট রেখে শোধন করে নিয়ে বপন করতে হবে; রোগের আক্রমণ দেখা দিলে ব্যভিস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা কিউপ্রাভিট প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হিসাবে মিশিয়ে চারার গোড়ায় দিতে হবে।
বৃষ্টিপাতের জন্যই মূলত টমেটো ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। এই রোগ থেকে টমেটো রক্ষা করার জন্য কৃষকদের ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করতে বলা হয়েছে। এই বছর রাজবাড়ী জেলার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























