রাজশাহীতে পোল্ট্রির কেজি ১৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম : রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে বেশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগি। প্রতিকেজি সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ ও ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা দরে।

গত সপ্তাহের শুরু থেকেই উঠানামা করছে ডিম-মুরগির দাম। সর্বশেষ আজ ২ আগস্ট রাজশাহীর সাহেববাজার মাষ্টারপাড়া কাঁচাবাজারের পাইকারি ডিম ও মুরগি বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যে এ বাজারদর জানা যায়।

মুরগির ব্যবসায়ী হাসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ব্রয়লার ১০৫ টাকা পাইকারিতে কিনে বিক্রি করছি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। এ দামে খামারিদের লাভ হবে না। খামারিদের ১২০ টাকা পাইকারিতে বিক্রি করতে পারলে লাভবান হবে। কারণ এখন খাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ কমলে লাভ বেশি হয়, এখন উৎপাদন খরচ বেশি লাভ কম। লোকসানও হয় অনেকের।

এই ব্যবসায়ী জানান, লেয়ার লাল ২০০ টাকা এবং দেশী মুরগি ৪০০ টাকা, হাঁস ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী মিলন হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মুরগির দাম বাড়বে। লকডাউন খুলে গেলে মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা বাড়বে। রাজশাহীতে অনেক মুরগি রোগে মারা গেছে। খামারিরা লোকসান খেয়ে আর বাচ্চা উঠাননি। এখন আমাদের মহাজন বাগমারা, পবা, নওগাঁ থেকে মুরগি নিয়ে আসছে।

বাজারের ডিম ব্যবসায়ী শামীম হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের মধ্যে কমে গিয়েছিল। কাঁচাবাজারের ঠিক নাই। প্রতিহালি (৪টি) লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। সাদা ডিম ২৪-২৬ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪৬ টাকা হালি দরে বিক্রি করছেন। আজ সোমবার ( ২ আগস্ট ২০২১) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ডিমের দাম কমা ও মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্যের এবং বাচ্চার দাম অত্যন্ত বেশি। বস্তাপ্রতি খাদ্যেও দাম ফের বাড়ানো হয়েছে ৫০-৭৫ টাকা। দাম বাড়ার কারণে মুলত বাচ্চা তুলছেন না খামারিরা। করোনার ভয়ে কয়েকমাস আগে খামারিরা বাচ্চা না তোলার কারণে এখন তৈরি মুরগি বাজারে টান পড়ে। এ কারণেই মূলত দাম বেড়ে ৩০০ টাকা কেজি লাগে। এখন মুরগির বাজার আস্তে আস্তে কমবে। তবে, এখন যে বাজার আছে তাতে আমাদের লাভ হচ্ছে। কমে গেলে লাভ থাকেনা।

রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, রাজশাহীতে ৬০ ভাগ খামার ফাঁকা হয়ে গেছে। বার্ড ফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মুরগি মারা গেছে। ভয়ে আর নতুন বাচ্চা তুলছেন না খামারিরা। আগের মতো আবার মুরগির দাম বাড়বে। এখন যা একটু কমেছে তাও থাকবে না।

ডিমের দাম বাড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিমের দামও বাড়বে। অনেক লেয়ার খামারি মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন। খাদ্যের দাম বেড়েছে তিন মাসে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা। এই দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না। বৈশ্বিকভাবে দাম ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকা বাড়লে বাংলাদেশে সিন্ডিকেটে দাম বাড়ায় ৭০-৮০ টাকা। এটা কোন নীতি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ