
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। দেশটি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে সিংগভাগ পাম অয়েল আমদানি করে। গত বিপনন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করছে দেশটি।
মুম্বাইভিত্তিক সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত বিপণন মৌসুমে ভারতের পাম অয়েল আমদানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে সয়াবিন তেল আমদানি ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, ইন্দোনেশিয়া রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
গত মাসে ভারতে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষ হয়েছে। এ মৌসুমে দেশটি ৭৯ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। এর আগের মৌসুমে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮৩ লাখ টন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর সূর্যমুখী তেল আসে ইউক্রেন থেকে। গত মাসে ভারত পরিশোধিত পাম অয়েল ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের বেজ আমদানি মূল্য ব্যাপক বাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, দেশটির সরকার রাতারাতি ভোজ্যতেল, স্বর্ণ ও রুপার বেজ আমদানি মূল্য বাড়িয়েছে। এ মূল্যের মাধ্যমে মূলত একজন আমদানিকারককে কী পরিমাণ ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়, তা নিরূপণ করা হয়।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়ত পারেন:
সয়াবিনে ১৪ টাকা কমিয়ে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
বিশ্ব বাজারে কমছে চাল ও গমের দাম
জানুন উচ্চ ফলনশীল গমের নতুন জাত সম্পর্কে, শীষে ৪০ দানা
এদিকে পশুখাদ্য উৎপাদনে সয়ামিলের ব্যবহার বাড়িয়েছে চীন। তাই আমদানি করছে বিপুল পরিমান। গত সেপ্টেম্বরে দেশটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- পশুখাদ্য উৎপাদনে সয়ামিলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে আমদানি হওয়া সয়াবিনের বড় অংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত মাসে দেশটি থেকে এসেছে ১১ লাখ ৫ হাজার টন। ২০২১ সালের একই মাসে দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৩৯ টন। অন্যদিকে ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ কমেছে, যা গত বছর ছিল ৫৯ লাখ ৩৬ হাজার টন, তা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজারে।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া ও ব্রাজিল থেকে রফতানি হ্রাসের কারণে বিশ্ববাজারে এবার সয়াবিনের দাম বেড়েছে। গত জুনে শস্যটির দাম এক দশকে সর্বোচ্চে পৌঁছে। উচ্চমূল্য ও পশুখাদ্য তৈরিতে সয়াবীজ ভাঙানোর কাজে কম মুনাফার কারণে বছরের শুরুতে প্রাণিসম্পদ খাতে সয়াবিনের চাহিদা কম ছিল, যা চীনের সয়াবিন কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিল।
সেপ্টেম্বরে আমদানিকারকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে। তবে বছরের প্রথম নয় মাসে গত বছরের তুলনায় আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























