
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে ‘অবৈধভাবে পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই বন্ধ করতে অভিযান’ করার নামে প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষুদ্র গুড় ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার দিলালপুর এলাকায় কয়েকশ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আখ মাড়াইয়ের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক, রবিউল ইসলাম, আলাউদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।
লিখিত বক্তব্যে গুড় ব্যবসায়ীরা জানান – দেশের উন্নয়নে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে বিসিকের নিবন্ধন ও ট্রাকিং আইডি, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন, স্থানীয় সরকারের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধ ভাবে আখ ও গুড়ের ব্যবসা করছি।
অথচ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযানের নামে সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করা সত্তেও কাগজ পত্র না দেখে আমাদের জিম্মি করে মারধর করে এবং গুড় তৈরি কারখানায় ভাংচুর করে পাওয়ার ক্রাশার জব্দ করে।
তারা আরো জানান, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল তার নিজেস্ব কয়েক হাজার বিঘা জমি লিজ দিয়েছেন মানুষকে। এসব জমিতে আখ চাষ না করে আলু, গম, মশুর ডাল চাষ করছে।
আর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ১৮০ টাকা মণে আখ বিক্রি করলেও চিনিকল কতৃপক্ষ ঠিকমত আখের মূল্য পরিশোধ করে না। অথচ গুড় ব্যবসায়ীরা ৩০০ টাকা মণে আখ ক্রয় করে নগদ টাকা প্রদান করে। তাই ক্ষুদ্র শিল্প গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে মিলের চেয়ে বেশি মূল্যে আখ বিক্রয় করেছে চাষিরা। স্বাধীন দেশে আখচাষিরা নিজের জমিতে আখ চাষ করে কোথায় বিক্রি করবে সেই স্বাধীনতা চিনিকল কতৃপক্ষ হরণ করছে। আবার উল্টো চিনিকল কতৃপক্ষ ক্ষুদ্র গুড় ব্যবসায়ীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। আমরা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ পাওয়ার ক্রাশার বন্ধ করার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। এখন আইনগত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কেউ বেআইনি ভাবে প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা সকলেই চাই লালপুরে ঐতিহবাহী ভারি শিল্পটি বেঁচে থাকুক।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম বলেন, চিনিকল জোন এলাকায় পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাহী ম্যাজিট্রেস্ট বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর গুড় ব্যবসায়ীরা চান সরকারি চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যাক। চিনিকল বন্ধ হয়ে গেলে গুড় ব্যবসায়ীরা আখ চাষিদের জিম্মি করে কম মূল্য আখ ক্রয় করতে পারবে।
তাই প্রান্তিক চাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য কৃষি বান্ধব সরকার লোকসানের পরও সরকারি চিনিকলটি টিকিয়ে রেখেছে। এ চিনিকলকে ধ্বংস করতে কিছু গুড় ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে থেকে ঝণ নেওয়া আখ চাষিদের থেকে উচ্চ মূল্য আখ ক্রয় করে মাড়াই করেছে। এতে সরকারি সম্পদ ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে চিনিকল সংশ্লিষ্ট এতগুলো লোক কর্মহীন হয়ে যাবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























