জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শ্রমিক সংকট নেই নাটোরে, আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এতে কৃষকের মনেও স্বস্তিও দেখা গেছে। চলনবিলের অন্যতম শস্যভান্ডার নাটোরে এখন ধান গলায় ভরতে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে নমুনা শস্য কর্তন উদ্বোধন করেন নাটোর জেলা প্রশাসক মো: শাহরিয়াজ। বিচ্ছিন্নভাবে আগাম জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। বাইরের জেলা থেকে হাজার হাজার ধান কাটা শ্রমিক আসতে শুরু করেছে জেলায়। তারা ছড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এসব শ্রমিকদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ধান কাটার জন্য ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে নাটোর জেলায় ১৭ টি কম্বাইন হার্বেস্টার যন্ত্র এবং ২ টি রিপার মেশিন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সেগুলো বিতরণও করা হয়েছে। নাটোরে ধান কাটার জন্য রাজশাহীর বাঘা চারঘাট উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিককে প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হয়েছে।

সেসব শ্রমিকসহ নাটোরের লালপুর বাগাতিপাড়া এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক সিংড়ায় প্রবেশ করবেন। এছাড়াও সিরাজগঞ্জের তাড়াস, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বগুড়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চলনবিলে ধান কাটতে আসবেন বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে নাটোর জেলায় ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার হেক্টর। এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার হেক্টর ধান বেশি চাষ করা হয়েছে। জেলায় মোট ধান চাষের উপযোগী জমির পরিমান ৫৭ হাজার ৭০ হেক্টর। এসব জমি থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোপুরি ধানকাটা শুরু হবে। করোনা পরিস্থিতি হলেও আমরা ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত না। ইতোমধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের সাথে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলকসহ সবার সাথে ভিডিও মিটিংয়ের মাধ্যমে কথা হয়েছে। রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া জেলার জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে যেসব জেলা থেকে নাটোরে ধান কাটতে আসে তাদের তালিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘গাইবান্ধা, রংপুর, জয়পুরহাট, নীলফামারি, দিনাজপুর বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব শ্রমিক এসেছে তাদের একটি তালিকা আমাদের কৃষি অফিসে জমা হয়েছে। সিংড়া উপজেলায় ২২ থেকে ২৩ হাজার শ্রমিক চলনবিলে ধান কাটতে এসেছে।

বিভিন্ন উপজেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বাইরের যেসব কৃষক আসবে তাদের তথ্য উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দেবে। ৩০-৪০ জনের একটি করে তালিকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে দিলে পরিক্ষা- নিরীক্ষা করে তারপর তাদের একটি প্রত্যয়নপত্র দিবেন। সেই প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গাতে যেতে পারছেন। পুলিশ- প্রশাসন তাদের কোন হয়রানি করবেন না।’

বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শ্রমিকসহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষ ধান কাটতে আগ্রহী কিনা এমন প্রশ্নে উপ-পরিচালক বলেন,‘করোনা ভাইরাসের কারেণে অসংখ্য পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা কাজে নামবেন। বাইরের যেসব মানুষ গ্রামে এসেছেন, রিকসা চালক, ভ্যান চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, ইটভাটার শ্রমিক তারা সবাই ধান কাটার জন্য মাঠে নামবেন। এতে করে আমাদের শ্রমিক সংকট হবে না। আবহাওয়া ভালো থাকলে সব ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে পারবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে দেশের অন্যতম কৃষি প্রধান চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার শহরবাড়ি গ্রামের সাধু প্রামানিকের বোরো ধান কর্তন করে ধানের নমুনা শস্য কর্তন উদ্বোধন করেন নাটোর জেলা প্রশাসক মো: শাহরিয়াজ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরিন বানু, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন প্রমূখ।

আরও পড়ুন: কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী