
মেহেদী হাসান, রাজশাহী: আমের রাজধানী রাজশাহীসহ এ অঞ্চলে এবার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলো কৃষি বিভাগ। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে, রাজশাহী জেলায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোন সমস্যা হবে না জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এ অঞ্চলে এবার আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ লক্ষ ৫২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যা গত বছরে ছিলো ৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। আর অর্জিত বাজারমূল্যে ছিলো প্রায় ৪ হাজার ২৬৬ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। গতবছর এ অঞ্চলে আমের গড় মূল্যে ছিলো ৫৫ টাকা কেজি। এবার উৎপাদন ভালো হলেও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের আম ব্যবসায়ীরা আম বেচাকেনায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমে উঠেছে অনলাইন বাজার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিনা পুঁজি ও স্বল্পপুঁজির মৌসুমি এ ব্যবসায় নেমেছেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অনেক শিক্ষার্থী। ভোক্তা বাজার প্রসারিত হওয়ায় বাগান মালিকরা প্রথম দিকে স্বস্থি প্রকাশ করলেও এখন চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।
এ অঞ্চলের রাজশাহী জেলায় গত বছর আমের আবাদ হয়েছিলো ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। আম্ফানের কারণে আমের আবাদ বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। ক্ষতি বাদে অর্জিত হয়েছিলো ১৫ হাজার ১২ হেক্টর জমি। যেখানে উৎপাদন হয়েছিলো ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন আম। এবার রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও বলছে কৃষি বিভাগ। আর গত বছর রাজশাহীর আমের গড় মূল্যে ছিলো প্রতিকেজি ৬০ টাকা।
নঁওগায় ক্ষতি বাদে ২৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিলো। সেখানে আমের গড় মূল্যে ছিলো প্রতিকেজি ৫০ টাকা।
নাটোরে ক্ষতিবাদে ৪ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিলো ৬৪ হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন। যেখানে আমের গড় মূল্যে ছিলো প্রতিকেজি ৪৫ টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষতিবাদে ৩২ হাজার ৭৬৪ হেক্টর জমিতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ২৮৫ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হয়েছিলো। যেখানে আমের গড় মূল্যে ছিলো প্রতিকেজি ৫৮ টাকা।
করোনাকালে অনলাইন মার্কেট প্লেসে আমের বেচাকেনা জমে উঠেছে। জানা যায়, এ অঞ্চলের রাজশাহী, নঁওগা, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনলাইনে আম বেচাকেনা হচ্ছে। তবে রাজশাহীর আম সবচেয়ে বেশি অনলাইনে বেচাকেনা হচ্ছে। রাজশাহীর ছোট বড় প্রায় সাড়ে ৫০০ ব্যবসায়ী সরাসরি ও অনলাইনেও ব্যবসা করছেন।
মৌসুমি অনলাইন ব্যবসায়ীরা কখনো সরাসরি আমবাগান আবার ছোট বড় মোকামগুলো থেকে নিজেদের পছন্দের আম কিনে সরবরাহ করছেন। অর্ডারের দু’তিনদিনের মধ্যেই ক্রেতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আম।
অনলাইন ব্যবসায়ী ব্যবসা নিয়ে স্বস্থি প্রকাশ করলেও অস্বস্থি প্রকাশ করছেন বাগান ব্যবসায়ীরা। লাভের আশায় লাভজনক এ ব্যবসায় এসেছেন নাইম ইসলাম। সে পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি আমের বাগান কিনেছেন। এই আম সংগ্রহ করে রাজশাহীর স্থানীয় বাজারসহ উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, মৌসুমী এ ব্যবসা লাভজনক। প্রথমে আশাবাদীও ছিলেন। কিন্তু এখন পাইকারি আমের তেমন দাম পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় পুঁজি উঠানো নিয়ে তিনি চিন্তায় আছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমি। আম উৎপাদন হবে সম্ভাব্য ২ লাখ ১৯ মেট্রিকটন। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন। প্রায় হাজার কোটির টাকার আম বিক্রি হওয়া সম্ভবনা রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে জানান, এবার আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গুনগত মানও ভালো। রাজশাহীর আম এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সেই সঙ্গে অনলাইনে কেনাবেচাও বেড়েছে। তবে করোনার কারণে অন্যান্যবারের চেয়ে দাম কম পাচ্ছে চাষীরা। এ অবস্থায় বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না? এটা নিয়ে সংশয় আছে।
























