মেহেদী হাসান, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভাঙা-গড়ার সাথে মিতালি রাজশাহীর পদ্মার চরের মানুষের। নদীর সাথে পাল্লা দিয়ে ভেসে বেড়ানো যেন জীবনের এক অফুরান অধ্যায়। অন্যদিকে সুবিশাল জেগে উঠা চরের বুক জুড়ে ফসলের সমারোহ বাঁচিয়ে রাখে এখানকার মানুষদের। চলতি মৌসুমে পদ্মার বুক জুড়ে ফলেছে সোনা। আঠাস জাতের ধানে ভরে গেছে চরের নীম্নাঞ্চল।

কোথাও পলিমিশ্রিত বালি মাটিতে খেসারি, মুগের চাষ আবার কোথাও চিকচিকে বালিতে হাসছে বাদাম। শাক-সবজি, ফল চাষেও পিছিয়ে নেই চর। বেগুন, পটল, লাউ, ঝিঙে, পেঁপে ছাড়াও গড়ে উঠেছে বড়-বড় পেয়ারা, মাল্টার বাগান।

৫৫ বছর বয়সী হেলাল উদ্দিন। বসবাস রাজশাহীর পবা উপজেলার চর খানপুর এলাকায়। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজ তাঁর। ঘরে বুড়ো-বুড়ির বাস। জীবনের দীর্ঘ সময় পার করেছেন পদ্মার ভাঙা-গড়া খেলার সাথে লুকোচুরি খেলে। এই প্রবীণ অভিজ্ঞতায় ঘোলআনা। তাঁর বুঝতে বাঁকি নেই পদ্মার নগ্ন চরিত্র।

এ চরেই বেড়ে উঠা আর জীবিকার উৎস পদ্মা। বছরের অর্ধেক সময় কাটে নদীতে মাছ ধরে আর বাঁকি সময় ফসলে। দু-জমিতে এবারেও খেসারি বুনেছিলেন, হয়েছিল বেশ। শুধু তাই নয়। তাঁর ধানী জমি রয়েছে আড়াই বিঘা। এই জমিতে শীষ ভরা ঠাসা আঠাস ধান। আড়াই বিঘায় ৫০ মণ আশা করছেন তিনি।

শুধু হেলাল উদ্দিন নয়। চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার উৎস চর। এবার অপেক্ষাকৃত নীচু জায়গাগুলোয় ধানের বেশ ফলন হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে ধানের বাম্পার ফলন। কোথাও আঠাস, কোথাও জিরাশাইল আবার দু-এক জায়গায় স্বর্ণা জাতের ধান।

মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি কমতে থাকে, জেগে উঠে চর। ট্রাক্টর, স্যালো মেশিন আর বীজ হাতে নেমে পড়ে কৃষকরা। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় নিরিখে জমির অবস্থা বুঝে বীজ বপন করতে থাকে। নীচু জমিতে ধান আর উঁচু বালিযুক্ত মাটিতে ডাল-দানা জাতীয় শস্য বুনে দেয়। কোন সার ছাড়াই বেড়ে উঠে ফসল। বাড়তি খরচের প্রয়োজন পড়ে না, লাগেনা কোন আগাছা পরিস্কারে শ্রমিক। একবারই ফসল হয় চরে। ফলে জমি তৈরি হয়ে গেলে আর খরচ নেই।

কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিকটন ধান। আগের বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিকটন। এবার ধানের জমি বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, চরে বেশিরভাগ আঠাস ধান চাষ হয়। তাছাড়া উপজেলায় প্রথম সারিতে আঠাস, এরপর জিরাশাইল এবং বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বেশি। চরে অন্যন্য জায়গার তুলনায় কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। চলতি মৌসুমে বোরো ধান ২০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

 

এগ্রিকেয়ার/জেএমই