স্কোয়াস একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় সবজি হিসেবে বিদেশীদের কাছে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। এদেশে স্কোয়াশ একটি উচ্চ মূল্যের সবজি ফসল। গত কয়েক বছর ধরে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষাবাদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তুলনামুলকভাবে কম উর্বর জমিতে এবং চরাঞ্চলে স্কোয়াসের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

স্কোয়াশ পরিচিতি ও আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশল (পর্ব-১) নিয়ে কৃষক ভাইদের জন্য লেখাটি লিখেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন

বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষপুত্র নদীর অববাহিকায় স্কোয়াসের চাষাবাদ করে সাবলম্বী হয়েছেন লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও মাদারীপুর জেলার চাষীরা। দেশের অন্য অঞ্চলে রয়েছে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের সম্ভাবনা। গবেষকরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে বারি স্কোয়াশ-১ নামে একটি জাত রবি মৌসুমে চাষাবাদেও জন্য মুক্তায়ন করা হয়েছে। বারি স্কোয়াশ-১ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। পরাগায়নের পর থেকে মাত্র ১৫-১৬ দিনেই ফল সংগ্রহ করা যায়। নলাকার গাঢ় সবুজ বর্ণের ফল। গড় ফলের ওজন ১.০৫ কেজি। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৪৫ টন।

উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটি ও আবহাওয়া:

স্কোয়াশের জন্য উষ্ণ, প্রচুর সূর্যালোক এবং নিম্ন আর্দ্রতা উত্তম। চাষকালীন সময়ে অনূকুল তাপমাত্রা হলো ২০-২৫ সেলসিয়াস। চাষকালীন সময়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও লম্বা দিন হলে পুরুষ ফুলের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং স্ত্রী ফুলের সংখ্যা কমে যায় । জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটি এর চাষাবাদের জন্য উত্তম তবে চরাঞ্চলে পলিমাটিতে স্কোয়াশের ভালে ফলন হয়।

বীজের হার:
প্রতি হেক্টরে ২-৪ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

বীজ বপন ও চারা উৎপাদন:
শীতকালে চাষের জন্য অক্টোবর- ডিসেম্বর মাসে বীজ বপন করা যায়। চারা নার্সারিতে পলিব্যাগে উৎপাদন করে নিলে ভাল হয়। বীজ বপনের জন্য ৮-১০ সেমি বা তার থেকে কিছুটা বড় আকারের পলিব্যাগ ব্যবহার করা যায়। প্রথমে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করে পলিব্যাগে ভরতে হবে। সহজ অঙ্কুরোদগমের জন্য পরিস্কার পানিতে ১৫-২০ ঘন্টা অথবা শতকরা এক ভাগ পটাশিয়াম নাইট্রেট দ্রবণে বীজ এক রাত্রি ভিজিয়ে অতঃপর পলিব্যাগে বপন করতে হবে।

প্রতিব্যাগে দুইটা করে বীজ বপন করতে হবে। বীজের আকারের দ্বিগুণ মাটির গভীরে বীজ পূঁতে দিতে হবে। বীজ সরাসরি মাদায়ও বপন করা হয়। সেক্ষেত্রে সার প্রয়োগ ও মাদা তৈরির ৪-৫ দিন পর প্রতি মাদায় ২-৩ টি করে বীজ বপন করা যেতে পারে। চারা গজানোর ১০-১২ দিন পর ১টি সুস্থ ও সবল চার রেখে বাকিগুলো উঠিয়ে ফেলতে হবে। চারার বয়স ১৬-১৭ দিন হলে তা মাঠে প্রস্তুত মাদায় লাগাতে হবে।

স্কোয়াশ পরিচিতি ও আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশল বিষয়ে আগামী পর্বে বিস্তারিত জানানো হবে। এগ্রিকেয়ার২৪.কমের সাথেই থাকুন। আপনারি জমির ফসল বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায় (Email: agricarenews@gmail.com)।

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ