অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সয়াবিনের দাম বাড়ার কারণে ব্রাজিল থেকে আমদানি কমিয়েছে চীন। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণেই আমদানিতে ভাটা পড়েছে। সম্প্রতি চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাজিল চীনের অন্যতম প্রধান সয়াবিন সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু দেশটির সয়াবিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীন যুক্তরাষ্ট্র ও উরুগুয়ের কাছ থেকে পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন ক্রেতা। আগস্টে দেশটি ব্রাজিলের কাছ থেকে ৬২ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৯০ লাখ ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি কমেছে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টন।

শুধু ব্রাজিলের কাছ থেকেই নয়, চীনের মোট সয়াবিন আমদানিও লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। গত আগস্টে দেশটি সব মিলিয়ে ৭১ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ২৫ শতাংশ কমেছে। ২০১৪ সালের পর এ বছরই আগস্টে সর্বনিম্ন সয়াবিন আমদানি করল দেশটি। শুল্ক বিভাগ জানায়, বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চীনে পণ্যটির চাহিদায় ভাটা পড়েছে।

পড়তে পারেন: সয়াবিনের লিটারে ফের বাড়লো ৭ টাকা

শুল্ক বিভাগ জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬২ টন সয়াবিন রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ হাজার ৫৭৫ টন। এছাড়া উরুগুয়ে থেকে আগস্টে আমদানি করা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪২ টন। গত বছরের একই সময় যা ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭০ টন।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীন ব্রাজিলের কাছ থেকে ৪ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টন। সে হিসাবেও দেশটি থেকে আমদানি কমেছে। আট মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি কমেছে। জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত দেশটি থেকে ১ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করা হয়। গত বছরের একই সময় যা ছিল ২ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার টন।

পড়তে পারেন: ১৭১ টাকা দরে এক কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে চীনের বাজারে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন সরবরাহ করে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। কিন্তু এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চীনের বাজারে পণ্যটির চাহিদাও ছিল দুর্বল।

চলতি বছর চীনে পণ্যটির চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমতে পারে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ কোটি ৮ লাখ টনে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটের করা এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মূলত কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মহামারী প্রতিরোধে আরোপিত লকডাউন চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মাড়াই কার্যক্রম অব্যাহতভাবে কমছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ