নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজিতে বেড়েছে আট থেকে ২৩-২৫ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে পেঁয়াজ আমদানি আপাতত বন্ধ হওয়ার কারনে বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে মজুতকারীরা। এজন্যই মূলতদাম অনেকটা বেড়েছে।

অবশ্য পাইকারি ব্যবসায়ীদের এ মত মানতে নারাজ খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শনিবার থেকে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দুই দিনের মধ্যে ৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ একলাফে ৬৫ টাকা হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। যার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। আমাদের দেশে পেঁয়াজের মজুত যা আছে তা অন্তত কিছুদিন তো চলতে পারে। এ কিছুদিন পার হলেই আবার পূজা শেষ হলে পেঁয়াজ আমদানি হবে। একরাতের মধ্যে দ্বিগুণ দাম হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই- এমনই মন্তব্য তাদের।

রাজশাহীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া এলাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে ১৬৫ টাকা পাল্লা বিক্রি করেছি। খুচরা বাজারে এক কেজি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। রোববার থেকে হঠাৎ দাম বেড়ে গেল। এর আগে পাইকারিতে এক মণ পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৪০০ টাকায়। দিনে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতাম। আগে জানলে কয়েক মণ বেশি কিনে রাখলে কাজে আসত।

বাজারের মাছপট্টির সামনে মেসার্স জামাল সবজি ভান্ডার। কথা হয় তার সাথে। প্রোপাইটার মো: মোস্তাকিন রহমান জনি বলেন, মহাজনেরা বলছে, ভারতে পূজা চলছে তাই বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসেনি; তাই দাম বাড়তি। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট নেই। আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার টান রেখে ফায়দা লুটতে নেমে পড়লো। ৬২ টাকা কেজি পাইকারিতে কিনে বিক্রি ৬৫ টাকা।

পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি নাÑজানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, সামনে সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ৭০ ছাড়াবে বলেই মনে হচ্ছে। সবকিছুর দাম বাড়তি। আদা ৮০ থেকে ১০০ বিক্রি করতাম এখন দেড়শ।

আরেক ব্যবসায়ী আবু বক্কার বলেন, পূজা, ঈদ আসলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ে। আবার, নতুন পেঁয়াজ আসার আগ মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এবার ভিন্ন দৃশ্য দেখছি। পাঁচ দিনে বেড়েছে ৩০ টাকা। আগামী তিন থেকে চার দিনে ৭০ টাকা পেরিয়ে যেতে পারে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কমে গেছে বলেও জানান আরেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী।

দাম বাড়তে পারে এমনই আভাস দিয়েছে পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতারা। তারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার তেমন কোনো কারণ নাই। তবে দেশি পেঁয়াজ মানুষের খাবারের মূল জায়গায় থাকলেও এখন ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে মানুষ। দেশি পেঁয়াজের দাম আরেকটু কমলে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনবে না মানুষ।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বাড়ায় খুশি রাজশাহীর পেঁয়াজ চাষিরা। তারা বলছেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রির বাজার দর মিলে গেলে লোকসান গুনতে হয়। দাম নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তারা। পাইকারি বাজারে ৮০০ টাকা মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে কোনো লাভ হয় না। হঠাৎ মানভেদে ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হওয়ায় বেশ লাভ হচ্ছে। তবে, এ দাম বেশিদিন থাকেনা। অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কৃষক এ বাজার ধরতে পারেন তারাই লাভবান হন। বাড়িতে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজ প্রতিবছরই দাম পাওয়া যায় বলে জানান তারা।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ