
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা এখন দেশের ‘ফলের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে হলুদ জাতের মাল্টা ও কমলা চাষ করে এই অঞ্চলের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। স্বাদে মিষ্টি এবং গন্ধে অনন্য হওয়ায় জীবননগরের এই হলুদ মাল্টা এখন ভোক্তাদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদের হলুদ মাল্টার বাগান এখন দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত। সজল জানান, এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টার চারা রোপণ করা যায়। আড়াই বছর বয়স থেকে ফল আসা শুরু হয় এবং তিন থেকে চার বছরে পূর্ণ ফলন পাওয়া যায়।
ফল ধরা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা, তবে ফলন শুরু হলে বছরে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জীবননগরে চলতি মৌসুমে ৩৩০ হেক্টর জমিতে কমলা ও মাল্টার আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে আন্দুলবাড়ীয়া, কেডিকে, বাঁকা, উথলী ও রায়পুর ইউনিয়নে মাল্টা চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বিসমিল্লাহ নার্সারীর মতো বড় প্রজেক্টগুলোতে দেশি-বিদেশি প্রায় ১ হাজার ৩০০ জাতের ফলের চারা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটির গুনাগুণের কারণে এখানকার মাল্টা অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হয়। বিদেশি আমদানিকৃত মাল্টার চেয়ে সতেজ ও পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা আকাশচুম্বী।
বিসমিল্লাহ নার্সারীর ম্যানেজার শৈশব আহমেদ জানান, তাদের ১৪০ বিঘা জমিতে ফলের বাগান রয়েছে, যা দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন।জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “জীবননগরে মাল্টা ও কমলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন বাড়ানো গেলে ফলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। আমরা উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।”
এই হলুদ মাল্টা চাষের মাধ্যমে জেলার অনেক বেকার যুবক আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এগ্রিকেয়ার/ আরিফ
























