
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাহারি রকমের অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ চাষে বাজিমাত করেছে ‘বুলবুল অ্যাগ্রো ফার্ম’। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় খামারটি গড়েছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের মাস্টার কন্ট্রোলার ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুল্লাহ বুলবুল।
শখের এই মাছ চাষকে বাণিজ্যিক ধারায় নিয়ে এসে খামারে উদ্ভাবন করেছেন মার্বেল মলি ও গোল্ডটার্চ মলি নামের নতুন দুই জাতের মাছ। এতে নিজের ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন তিনি।
মাত্র পাঁচ বছরে রঙিন মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর এলাকায় নিজের জমিতে কয়েকটি ড্রামে রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে ইচ্ছা জাগে প্রজননের মাধ্যমে নতুন মাছ উৎপাদন করার। এভাবে বাণিজ্যিকভাবে অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন তিনি।
বুলবুল স্বপ্ন দেখছেন কিভাবে রঙিন মাছ চাষ করে তাঁর খামারকে বড় পরিসরে তৈরি করবেন। এ জন্য নিয়েছেন নানা উদ্যোগও। উদ্ভাবিত নতুন প্রজাতির মাছ ছাড়াও লাল, নীল, হলুদ, কালোসহ বাহারি রঙের মাছ রয়েছে তাঁর খামারে।
হোয়াইট মলি, গোল্ডেন মলি, গোল্ডটার্চ মলি, অরেন্ডা, রিওকিং, গোল্ড ফিশ, রেডকার্প, ব্ল্যাক মোড়, গোল্ডফিশ, কমেট, কই কার্প জাপানি, ফেন্সি কই কার্প, মিল্কি কই কার্প, সোর্ডটেল, প্লাটি, এনজেল ফিশ, ওইডো টেট্রা ফিশ, জেব্রা ফিশ, মিক্সড গাপ্পি এবং ফাইটারসহ বেশ কিছু প্রজাতির রঙিন মাছ রয়েছে তাঁর খামারে।
বুলবুল অ্যাগ্রো ফার্মের প্রবেশমুখের কাছে একটু সামনে যেতেই চোখে পড়ে রঙিন মাছ চাষের জন্য তৈরি করা সারি সারি চৌবাচ্চা। যেখানে রয়েছে বাহারি সব রঙিন মাছ। মাছ চাষসহ কৃষিকাজের প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল বুলবুলের। পেশাগত কাজের ফাঁকে অবসর সময় কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন বুলবুল অ্যাগ্রো র্ফাম নামের এই রঙিন মাছের খামার।
বুলবুল জানান, অ্যাকোয়ারিয়ামে রঙিন মাছ চাষ এবং ছোট ছোট ড্রামে মাছের রেণু ফোটানো তাঁর শখ ছিল। ২০১৭ সালে তিন হাজার টাকার মাছ ক্রয় করে ছোট পরিসরে খামার শুরু করেন তিনি। এর পর থেকে পিছে তাকাতে হয়নি তাঁর। বর্তমানে বুলবুল অ্যাগ্রো ফার্মে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের প্রায় ২০টি চৌবাচ্চায় বিভিন্ন জাতের রঙিন মাছ চাষ করেন বুলবুল। চৌবাচ্চা ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে আরো দুই লাখ টাকা খরচ হয় তাঁর। কিছুদিন পরপরই মাছগুলো ডিম দেয়। এরপর শুরু হয় রেণু ফোটানো। এভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বুলবুলের খামারে মাছের সংখ্যা।
হাবিবুল্লাহ বুলবুল বলেন, এরই মধ্যে আমি দুটি নতুন জাতের রঙিন মাছ উদ্ভাবন করে নাম দিয়েছি গোল্ডটার্চ মলি ও মারবেল মলি। একটি ব্ল্যাক মলি স্ত্রী মাছ ও একটি হোয়াইট মলি পুরুষ মাছ ক্রস করে যখন একটি চৌবাচ্চায় রাখা হয়, তখন এমন মাছের শরীরে মারবেলের নতুন ফোঁটা ফোঁটা কালো দাগ হয়। এটির নাম দিয়েছি মারবেল মলি। একইভাবে একটি গোল্ডেন মলি পুরুষ ও একটি ব্ল্যাক মলি স্ত্রী মাছ ক্রস করে একটি চৌবাচ্চায় রাখা হয়। এই মাছের শরীরে গোল্ডেন ফোঁটা ফোঁটা দেখা যায়। এর নাম দিলাম গোল্ডটার্চ মলি। এই দুটি নতুন জাতের মাছ বেশ জনপ্রিয়।
বুলবুল বলেন, ২০২১ সালে এক লাখ টাকা ও ২০২২ সালে দুই লাখ টাকাসহ এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। সেপ্টেম্বর মাসে ৪৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি। এখন আমার খামারে প্রায় এক লাখ টাকার মাছ আছে। খামারে উৎপাদিত রঙিন মাছ বিক্রি করতে মার্কেটে যেতে হয় না। ঢাকার কাঁটাবনসহ অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ বিক্রি করে এমন দোকানের মালিকরা এসে মাছ নিয়ে যান। এ ছাড়া আশপাশের এলাকার লোকেরা শখের বসে মাছ নিয়ে যান।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ/২০২৩
























