
জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধান ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হলে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইফতারের পর থেকেই আকাশ কালোমেঘে ঢেকে যায়। রাত ৮টার দিকে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকটি এলাকায় তীব্র শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী সদর বাজার, ধানশাইল ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ভয়েজ অব ঝিনাইগাতীর আহ্বায়ক জাহিদুল হক মনির জানান, আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে অনেকের টিনের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। পাশাপাশি কৃষকদের ধানের জমি ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ইফতারের পর থেকেই আকাশ ভারী ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এমন শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, যা গত ১৫–২০ বছরের মধ্যে দেখা যায়নি। বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর শিলা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ধানশাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজীব কুমার রায় জানান, তাদের এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং শিলের আকারও ছিল বড়। এতে বেশ কয়েকজনের টিনের ঘরের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ধান ও কলাচাষিদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়ন ও খড়িয়া কাজির চর ইউনিয়নেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষিখাতে কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা কৃষি বিভাগ যাচাই করবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের ঘরবাড়ি বা টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে এবং বরাদ্দ থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের টিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখওয়াত হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এগ্রিকেয়ার/ আরিফ
























