মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদন, রাজশাহী: মৌসুমের আগেই বাজারে আগাম জাতের লাল পাখরি (ইন্দুরকানি) আলু বিক্রি হচ্ছে হরদম। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মাঝারি ও বড় আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ টাকায় নেমে এসেছে। আগাম আলুর এমন দরপতনে এ অঞ্চলের আলুচাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

ব্যবসায়ী ও চাষি সূত্রে জানা যায়, ৫০ দিন বয়সী মাঝারি মানের আলু চাষিরা উত্তোলন করছে। ফলে বাজারে আলুর আমদানি বেড়েছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আলুর দাম না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, রাজশাহীতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ও এ্যাস্টেরিক জাতের আলু বেশি চাষ হয়। অনেক চাষি আগাম (ষ্যাঁটা) জাতের আলু চাষ করেন। এসব আগাম আলুর দাম বেশি পাওয়ায় অনেক চাষি আগ্রহ নিয়ে আলু চাষ করেন। তবে সময় যত গড়িয়ে যাবে তত দাম কমতে থাকবে। এখন কিছুটা কমেছে।

চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর ছিল ৩৮ হাজার ৬২৯ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে আগের তুলনায় কমেছে আলুর চাষ। ৩৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন আলু চাষের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে কৃষি বিভাগ। অর্থাৎ প্রতি হেক্টর জমিতে ২৬ দশমিক ৫০ টন আলু চাষ করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানোর যোগীশহ এলাকার আলু চাষি রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করি। বর্তমানে আলুর দাম ভালো দাম রয়েছে। বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে সে দামে তো আর জমিতে বিক্রি হবে না। আগাম আলু ১২’শ টাকা মণ বিক্রি করতে পারলেও লাভ হবে। লোকসান হবে না। কিন্তু আলুর দাম কিছুটা কমে গেছে। একটা মাঝারি অবস্থায় থাকলে ভালো হয়। অন্তত ১৪’শ টাকা মণ লাল আলু বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাবে।

রাজশাহীর সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, সর্বপ্রথম লাল আলু বিক্রি করেছি ১৫০ টাকা কেজি। দিন পনের আগে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এখন ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করছি। আর কিছুদিন পর আরো দাম কমবে। সাদা বার্মা জাতের আলু একটু দাম কম। লালটার তুলনায় সাদা বার্মার জাতের আলুর দাম কম। ২০ টাকা কেজি।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের আলু চাষি ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাকিব বলেন, গত বছর ৫০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছিলাম। কিন্তু এবছর আলুর বীজ সংকট এবং দাম বেশি হওয়ায় ৩০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। এবার দাম ভালো আশা করছি। আমার সব আলু কার্ডিনাল। স্টোরেজ করে রাখি কিছুটা আবার বিক্রি করে দিই ভালো দাম পেলে।

লাল আলুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাল আলুর চাহিদা মৌসুমের শুরুতেই বেশি হয়। পরে আস্তে আস্তে কমতে থাকে। েএমন অবস্থা যদি ডায়মন্ড, কার্ডিনালে দাম কমতে থাকে তাহলে মাথায় হাত। আগাম আলুতে বেশি খরচ হয় তাই এখনই তাদের মাথায় হাত পড়েছে। ৬০০ টাকা মণ আলু বেচে কোন লাভ হয়না। খরচ বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন এগ্রিকেয়ার.কম কে বলেন, নির্ধারিত সময়ে আলু চাষের জন্য উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকরা যাতে আলুর ভালো ফলন পান সেই জন্য সার, সেচ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ