
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
আমদানিনির্ভর বিদেশি ফল আনার বা বেদানা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুরের দুই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। জেলার মাটিতে দেশের সর্ববৃহৎ আনার বাগান তৈরি করে তারা শুধু সফলই হননি, প্রথম বছরেই বিপুল পরিমাণ ফলন পেয়ে বাজারজাতকরণও শুরু করেছেন। স্বাদ, গন্ধ, রঙ ও আকারে বিদেশি আনারের সমকক্ষ হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় উদ্যোক্তারা এ বছর অন্তত ৩০ লাখ টাকার আনার বিক্রির আশা করছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় মূল সড়কের পাশেই চোখে পড়বে সাড়ে তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘গ্রিন লিফ এগ্রো ফার্ম’ নামের বিশাল এই আনার বাগানটি। চার বছর আগে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি কৃষি খামার থেকে আনার চাষের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এই বাগান শুরু করেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম ও তার বন্ধু মনিরুজ্জামান। দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়া আনার চাষের জন্য শতভাগ অনুকূল না হলেও, দুই বন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নিবিড় পরিচর্যায় অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন তারা।
তাদের বাগানে উন্নত জাতের প্রায় ১১০০টি আনার গাছ রয়েছে। চারা রোপণের চার বছর পর এবারই প্রথম গাছগুলোতে ফল এসেছে এবং প্রথম বছরেই প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে। উদ্যোক্তারা জানান, তাদের বাগানে উৎপাদিত আনার স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ ও আকারে আমদানি করা বিদেশি আনারের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা বাগান থেকে পরিপক্ব আনার সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু করেছেন। ফলের গুণগত মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই পাইকারি দরে আনার কিনে নিচ্ছেন।
উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম জানান, বাগান থেকে পাইকারি দামে বড় আকারের আনার প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং তুলনামূলক ছোট আকারের আনার ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। গড়ে প্রতিটি আনারের দাম পড়ছে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা। এ বছর তাদের বাগানে প্রায় ৫০ হাজার আনার এসেছে। সব মিলিয়ে প্রথম বছরেই কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার আনার বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নাদিম আরও বলেন, গাছের বয়স ও পরিধি বাড়ার সাথে সাথে ফলনও বাড়বে।
তারা ইতোমধ্যে কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছর ফলন দ্বিগুণ করার ব্যাপারে আশাবাদী। আগামী বছর অন্তত ৬০ লাখ টাকার আনার বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে একটি আনার গাছ সাধারণত ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে ফলন বৃদ্ধি পায়।
বাগান মালিক ও কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আয়তনের দিক থেকে এটিই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় আনার বাগান।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে হলেও দিনাজপুরের মাটিতে আনারের এই বাগান অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, দিনাজপুরের মাটিতে আনার চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি অন্য কৃষকদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।
























