
ডেস্ক প্রতিবেদ, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেতে ব্যাপক হারে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া, ফাঁদ পাতাসহ নানান ব্যবস্থা নিলেও কমছে না ইঁদুরের আক্রমণ। ফলে ধানের ফলন নিয়ে দিশেহারা কৃষক।
এদিকে, ইঁদুরের হাত থেকে আমন ধান বাচাঁতে স্থানীয় কৃষি অফিসের লোকজন খুবই তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা ফসল রক্ষায় ইঁদুরের আক্রমণ প্রতিরোধে নিরলসভাবে মাঠে কাজ করার পাশাপাশি কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে আসছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৯শ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। ধানের ফলন বৃদ্ধিতে তারা সব রকমের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন।
একাধিক কৃষক জানান, ধান রোপণের পর থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে আবাদকৃত ধানের জমিগুলো সবুজে ভরে উঠেছে। বর্তমানে ধানের জমিতে শীষ বের হতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দলবদ্ধ ইঁদুর ধানক্ষেতে গিয়ে শীষ আসা ধানগাছ কেটে ফেলায় সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার কালিকাপুর, দ্বিজয়পুর, হীরাপুর,সাতপাড়া, আদমপুর, কুসুমবাড়ি, তুলাবাড়ি, তারাগনসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিগন্তজোড়ে সবুজের সমারোহ হয়ে আছে। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ চোখে পড়ছে। ফাঁকা নেই যেন ফসলের মাঠ। গরম আর হাল্কা হাওয়ায় আপন মনে দোল খাচ্ছে আমনক্ষেত। অনেক আমন জমিতে শীষ আসতে শুরু করেছে। তবে অনেক জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষকরা ইঁদুর মারার জন্য ওষুধ ব্যবহার করেও ফল পাচ্ছেন না। এ বছর মাঠের ধান ভালো হলেও ইঁদুরের উৎপাতের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মো. আবুল খায়ের বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, এ মৌসুমে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করা হয়। এর মধ্যে জমিতে আমন ধানের শীষ আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ২ বিঘা জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। প্রতি রাতে ইঁদুর ধান গাছ কেটে ফেলছে। ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। জমির যে অবস্থা দেখতে পারছি তাতে মনে হচ্ছে ফলন অনেক কম হবে।
কৃষক মো. এমরান মিয়া বলেন, আমন চারা লাগানোর পর জমি বেশ সবুজ হয়ে উঠে। এখন থোড় আসা জমি ইঁদুর কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন ওষুধ দিয়েছি। খুব একটা কাজ হচ্ছে না। কি করব ভেবে পাচ্ছি না।
কৃষক মো. ফারুক মিয়া বলেন, আমি ৫ বিঘা জমি আবাদ করেছি। এর মধ্যে এক বিঘা জমিতে ইঁদুরে কেটে সাবার করে ফেলছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না।
কৃষক আলম মোল্লা বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন ধান চাষ করি। আবাদ করার পর জমির অবস্থা খুবই ভালো ছিল। গত সপ্তাহ ধরে ১ বিঘা জমিতে মাজরা পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকা দমনে জন্য কীটনাশক ব্যবহার করেও থামানো যাচ্ছে না আক্রমণ। ধানের ফলন নিয়ে অনেকটাই দুশ্চিন্তায় আছি।
আখাউড়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিছিন্নভাবে কিছু জমিতে ইঁদুর ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমরা সব সময় কৃষকদের ধান আবাদে শতর্ক করে দিয়ে থাকি। কিন্তু বেশির ভাগ কৃষক আমাদের কথা তেমন মানেন না। ওইসব দমনে কৃষকদের অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, কিছু এলাকায় জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইঁদুর দমনে উপজেলা কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে ইঁদুর নিধনে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে ইঁদুর মারার ফাঁদ, গর্তে পানি ভরে ইঁদুর তাড়ানোসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। আশাকরি, কৃষক ইঁদুর থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে। ফসল রক্ষায় ও ফলন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সার্বিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। এ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
























