
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারে আলুর দাম কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। আলুর বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে আগামীতে আবাদ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৩শত ৩৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৩ হাজার ৪শত ৭০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, রোমানা, এস্টারিজ, ক্যারেজ, ফুপরি ও লাল-সাদা পাকরীসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘা প্রতি কৃষকদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার হাটিয়ারী গ্রামের আলু চাষী হরি মোহন জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ মণ ফলন পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে আলুর মণ মাত্র ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
একই গ্রামের কৃষক মহন্ত আক্ষেপ করে বলেন, গত বছরও আলুর দামে ধস নামায় আবাদ কমেছে। এবারও লোকসান হলে চাষীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আলু তোলার পর ওই জমিতে বোরো ধান রোপণ করলেও ফলন আশানুরূপ হয় না বলে কৃষকরা দ্বিগুণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে আলুর ন্যায্য দাম নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন এবং ফলনও বেশ সন্তোষজনক হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আলুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম। তবে কৃষকরা যদি এখন আলু বিক্রি না করে হিমাগারে বা নিজ বাড়িতে মাচা পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে পারেন, তবে পরবর্তীতে ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
























