ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আলুর ভালো ফলন পেতে শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, পুরো চাষাবাদ সময়জুড়ে সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, মাটি তুলে দেওয়া, রোগবালাই দমন ও সময়মতো পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি।

গাছের বৃদ্ধি ধাপভিত্তিক যত্ন, বিশেষ করে মড়ক ও লেট ব্লাইটের মতো রোগ প্রতিরোধে নিয়ম মেনে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং সেচ নিয়ন্ত্রণ করলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ফলন বৃদ্ধি করার কার্যকর পদ্ধতি:
১. আলু গাছের উচ্চতা ১০–১৫ সেন্টিমিটার হলে প্রতি বিঘায় ইউরিয়া সার ১৫–২০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। সঙ্গে রুটোন ২ কেজি বা হিউমিক অ্যাসিড ২ কেজি ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. রোপণের ২৫–৩০ দিনের মধ্যে প্রথম সেচ দেওয়া ভালো।

৩. দুই সারির মাঝখানে সার প্রয়োগ করে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে সেই মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে।

৪. প্রতি ১২–১৫ দিন পরপর একইভাবে গোড়ায় মাটি তুলে না দিলে গাছ হেলে পড়ে এবং ফলন কমে যায়।

৫. আলুতে নাবি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে, তাই নির্ধারিত স্প্রে শিডিউল মেনে চলা জরুরি।

৬. মড়ক রোগ দমনে দেরি না করে প্রপিনেব, ম্যানকোজেব বা ডাইমেথোমর্ফ গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৪–৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

৭. লেট ব্লাইট বা মড়ক রোগ দেখা দিলে এবং জমিতে ঢলে পড়ার প্রবণতা থাকলে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

৮. পাশাপাশি মালচিং, নিয়মিত সেচ ও আগাছা দমনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

৯. লেট ব্লাইট বা ঢলে পড়া রোগে আক্রান্ত জমিতে পিজিআর স্প্রে করা যাবে না।

১০. রোপণের ৪৫–৫০ দিনের আগে মেটালেক্সিল ও সাইমক্সানিল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা উচিত নয়।

১১. আলু গাছের বয়স ৩০–৫৫ দিনের মধ্যে সেচের ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না।

১২. গাছের বয়স প্রায় ৯০ দিন হলে মাটির সমান করে গাছ কেটে দিতে হবে এবং ১০ দিন পর আলু তুলে ফেলতে হবে।

১৩. আলু উত্তোলনের অন্তত ১৫ দিন আগে সেচ বন্ধ করতে হবে।

১৪. আলু তোলার পর ভালোভাবে শুকিয়ে বাছাই করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।