
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: অষ্টম শ্রেণি পাস করা শাহ আলীর স্বপ্ন ছিল ময়ূর পোষা। ময়ূরের পেখম তোলা নাচ তাকে মুগ্ধ করতো। তাই মাত্র একজোড়া ময়ূর থেকে গড়ে উঠে পুরো খামার। শখ থেকেই এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক শাহ আলী।
শাহ আলী কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ময়ূরের খামার করে স্বাবলম্বী উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে। বর্তমানে তার খামারে ৯০ টি ময়ূর আছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে শাহ আলী ময়ূর বিক্রি করে পেয়েছেন ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে শাহ আলী এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক।
ময়ূর খামারি শাহ আলী জানান, আমি ছোট বেলায় ঢাকায় মিরপুরে ভাড়া বাসায় পাখি লালন পালন করতাম। হঠাৎ একদিন পাখি বিক্রি করতে গিয়ে চোখ পড়ে যায় ময়ূরের দিকে। পরে পাখি বিক্রির টাকাসহ টাকা ঋণ করে ১ লাখ ৬৫ টাকা দিয়ে দুটি ময়ূর কিনি। এ ময়ূর দুটি ১৮টি ডিম পাড়ে। তা থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। কিছু দিন পরে আমি ময়ুরগুলো নিয়ে আমি বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে দুটি টিনসেড ঘর তৈরি করে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আরও পাঁচটি ময়ূর ক্রয় করে খামার গড়ে তুলি। যার মধ্যে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর ছিল।
পড়তে পারেন: ঘাস চাষ করেই কোটিপতি গফুর!
জানা যায়, শাহ আলী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শখের বসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরুষ ও একটি নারী ময়ূর ক্রয় করে তা পোষা শুরু করেন। পরবর্তীতে নারী ময়ূরটি ১৮টি ডিম দেয়। এ ডিম থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। এভাবে বাড়তে থাকে ময়ূরের সংখ্যা।
পরবর্তীতে ১৪০টি ডিম পাড়ে। এতে বাচ্চা ফোটে ১২টি। পরবর্তীতে ময়ূর বিক্রি করে ২১ লাখ টাকা পেয়েছি। সবার দোয়ায় বর্তমানে আমি খুব ভালো আছি। ময়ূরের খামার আরও বৃদ্ধি করে বাণিজ্যিক খামার গড়তে চাই।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জানা মতে এটা জেলায় প্রথম ময়ূরের খামার এটা। উপজেলা থেকে জানা গেছে বনবিভাগ থেকে ঐ খামারি খামারের অনুমতিও পেয়েছেন। ময়ূর লাভজনক ব্যবসা। কেউ খামার করতে চাইলে চিকিৎসা থেকে শুরু করে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























