
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীর বাজারে গত দুই সপ্তাহ আগেও লেবু বিক্রি হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা হালি। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতি হালিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে মানভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা হালি।
আজ বুধবার (৩০ মার্চ) রাজশাহীর উপশহর নিউমার্কেট, সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজি বাজার, লক্ষীপুর কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে শরবত এবং অন্যান্য প্রয়োজন থাকার কারণে লেবুর দাম বেড়ে যায়। রমজানে চাহিদা বাড়ার কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
তবে ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে কোন জিনিসে শান্তি নেই। ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি লেবু বিক্রি করলেও লেবু চাষিদের লোকসান হবে না। সত্য কথা হলো, চাষিরা বাজারের তুলনায় দাম পায় না। বাগান থেকে অল্প দামে কিনে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারদের হাত ঘুরে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়।
মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে কোন সবজির দাম কম নেই। ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। সেই তুলনায় লেবুর দাম বাড়তেই পারে। প্রতি বছর রমজানের আগে লেবু বা ফলজাতীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়। সারাবছর লেবুর চাহিদা কম থাকে কিন্তু রমজানে লেবুর চাহিদা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যারা সারা বছর লেবু খায় না; তারাও দু এক হালি লেবু কেনে। এছাড়া বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বল মনে হচ্ছে।
গতবছরের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা হালি লেবু হতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবারে লেবুর তেমন সমস্যা হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হালি হতে পারে। বাজারে দেশি জাতের লেবু নেই চায়না জাতের লেবুতে ভরপুর। আরেকটা কারণ হলো, গতবছর করোনা থাকার কারণে লেবুর রসের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সে অনুযায়ী লোকজন নিশ্চিত থাকতে পারে।
ক্রেতারা বলছেন, সারাবিশ্বে রমজানের আগে সব জিনিসপত্রের দাম কমে যায় কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত একটি দেশে সম্পূর্ণ উল্টো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয় এবং মুনাফাভোগী অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমাদের শাসন ব্যবস্থার কিছু খামতি থাকার কারণে এসব মধ্যস্বত্বভোগীরা পার পেয়ে যায়। আইনের কড়া প্রয়োগ হতে পারে নয়তো জনগণের ভোগান্তি কমবে না। চাল তেল-চিনি আটা মসুর এবং ছোলার দাম কেজিতে কম করে হলেও ১০ টাকা কমানো প্রয়োজন। যাতে রমজানে মানুষের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে।
রাজশাহীর এক লেবুচাষি জানান, বাগানে সাড়ে তিন টাকা পিস লেবু কিনলেও খুচরায় তারা বাজারে সাড়ে ৫ থেকে ৬ টাকা বিক্রি করে। চাষির তুলনায় ফড়িয়াদের লাভ বেশি। কারণ এখন পর্যন্ত চাষিরা সরাসরি নিজে বাজার ব্যবস্থার সাথে তাল মিলাতে পারেন না।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























