ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শের খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। গবেষকরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন, কিন্তু সেই প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানো না যায়, তবে সকল উদ্ভাবনই ব্যর্থ। তাই প্রয়োজন কৃষিপ্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কিছু টেকসই ও কার্যকর কৌশল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘কৃষক থেকে কৃষক’ শিখন পদ্ধতি। যখন কোনো এলাকার একজন প্রগতিশীল কৃষক নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভবান হন, তখন তার সাফল্য দেখে আশপাশের অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হন এবং দ্রুত সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করেন। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং প্রযুক্তিটি স্থায়ী হয়।

একইভাবে ‘অংশগ্রহণমূলক গবেষণা’ একটি সফল কৌশল। এতে গবেষক ও কৃষক একসঙ্গে মাঠে কোনো প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। ফলে প্রযুক্তিটি স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষকের চাহিদার সঙ্গে আরও বেশি মানানসই হয়ে ওঠে এবং কৃষকরা সেটিকে নিজের প্রযুক্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য ‘ফার্মার ফিল্ড স্কুল’ একটি প্রমাণিত পদ্ধতি।

এটি মাঠভিত্তিক এক ধরনের অনানুষ্ঠানষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে কৃষকরা হাতে-কলমে কাজ শেখেন, যা তত্ত্বীয় প্রশিক্ষণের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।আধুনিক যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার কৃষিপ্রযুক্তি হস্তান্তরে বিপ্লব এনেছে। মোবাইল ফোন, অ্যাপ, ইউটিউব ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে এখন খুব সহজেই কৃষকের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর এবং চাষাবাদের নতুন কৌশল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়াও, প্রদর্শনী প্লট ও মডেল ফার্ম স্থাপন করে নতুন প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা কৃষকদের দেখানো, কৃষক সমবায় বা ক্লাব গঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে প্রযুক্তি গ্রহণ এবং গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে নারীদের বিশাল অবদান বিবেচনায় রেখে নারী কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনাও কৃষিপ্রযুক্তি হস্তান্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই কৌশল। এই সমন্বিত কৌশলগুলোই পারে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করে তুলতে।