
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সবজি ও ফলগাছে সাদামাছি একটি বড় সমস্যা। ছোট আকারের এই পোকা পাতার রস শোষণ করে গাছ দুর্বল করে ফেলে এবং নানা রোগ ছড়ায়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফলন ও গাছের স্বাস্থ্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাদামাছির আক্রমণের লক্ষণ
• পাতার নিচে সাদা গুঁড়ার মতো পোকা বা দাগ দেখা যায়
• পাতায় আঠালো পদার্থ জমে কালো ছত্রাকের আস্তরণ পড়ে
• পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, হলুদ হয়ে যাওয়া বা বৃদ্ধি থেমে যাওয়া
• ভাইরাসজনিত রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়া
সাদামাছির ক্ষতি
• গাছের রস শোষণ করে দুর্বল করে
• ‘হানিডিউ’ নিঃসরণ থেকে শুটিমোল্ড ছত্রাক হয়, ফলে সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়
• লিফ কার্ল, মোজাইকসহ বিভিন্ন ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়
জৈব পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ
• বাগান পরিষ্কার রাখুন, আগাছা ও আক্রান্ত পাতা নিয়মিত সরান
• গাঁদাফুল লাগালে পোকা আকৃষ্ট হয়ে মূল ফসলের ক্ষতি কমায়
• হলুদ বা নীল স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করলে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা ধরা পড়ে
• নিমতেল ১০ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পরপর স্প্রে করা যায় (প্রতিরোধমূলক পর্যায়ে বেশি কার্যকর)
• জৈব বালাইনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়
রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা
• আক্রমণ কম থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ৫–৭ দিন পরপর স্প্রে করা যায়
• আক্রমণ বেশি হলে ভিন্ন গ্রুপের কার্যকর কীটনাশক পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করতে হয়
• একই গ্রুপের কীটনাশক বারবার ব্যবহার না করে পালাক্রমে প্রয়োগ করলে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে
সতর্কতা
• বিকালে স্প্রে করা ভালো, যাতে উপকারী পতঙ্গের ক্ষতি কম হয়
• সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন
• মাত্রা ও বিরতি মেনে চলা জরুরি
সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিলে সাদামাছির আক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং গাছ সুস্থ থাকে।
























