আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে রাশিয়া। বসন্তকালীন গম উত্তোলন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কৃষিপণ্যের বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সভেকন রাশিয়ার গম উৎপাদনের বিষয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি গম রফতানি করে রাশিয়া। কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটির কৃষকরা নতুন গম উত্তোলন শুরু করবেন বলে প্রত্যাশা।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সভেকন জানায়, গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদন ছয় লাখ টন বাড়বে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮ কোটি ৯২ লাখ টনে।

সভেকনের প্রধান অ্যান্ড্রু সিজভ বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের প্রাথমিক উৎপাদনের পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে। এ অঞ্চলের উৎপাদন পরিস্থিতি ইতিবাচক থাকলে পূর্বাভাস আরো বাড়ানো হতে পারে।

পড়তে পারেন: গমের বাজার ঊর্ধ্বমুখী, কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা

সভেকন রাশিয়ার বসন্তকালীন গম আবাদি জমির পরিমাণ বাড়বে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ১ কোটি ২১ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদের কথা বলা হলেও সর্বশেষ পূর্বাভাসে তা বাড়িয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৭ লাখ টন করে উৎপাদনের পূর্বাভাস দিলেও তা বাড়িয়ে ১৮ লাখ ২০ হাজার টনে নিয়ে আসা হয়েছে। কারণ দেশটির ভোলগা ও উরাল অঞ্চলে আবহাওয়া উৎপাদনের অনুকূলে।

এদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ। দেশটিতে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে গমের উৎপাদন কমতে পারে বলে জানিয়েছে বুয়েন্স আয়ার্স গ্রেইনস এক্সচেঞ্জ। এছাড়া আগের দুই মৌসুমেও আবাদ নিম্নমুখী ছিল।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য বলছে, গত বছর থেকেই ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত আর্জেন্টিনার কৃষি খাত। প্রধান প্রধান উৎপাদন অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে  দেশটিতে গমের আবাদ কমে যেতে পারে। এছাড়া সয়াবিন তেল ও সয়ামিল রফতানিতেও নেতৃস্থানীয় লাতিন আমেরিকার এ দেশ।

এক্সচেঞ্জের দেয়া তথ্যমতে, আর্জেন্টিনায় গম আবাদি জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ হেক্টর। এক মাস আগে দেয়া পূর্বাভাসে জমির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৬৬ লাখ হেক্টর। এ নিয়ে টানা তিন মৌসুমে দেশটিতে গমের আবাদ কমতে যাচ্ছে।

পড়তে পারেন: রেকর্ড গড়তে পারে গম-ভুট্টার দাম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো অবরুদ্ধ থাকায় তলানিতে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রাশিয়ার রফতানিও।

কিন্তু গম আবাদের ক্ষেত্রে খুব খারাপ সময় পার করছে আর্জেন্টিনার কৃষক। মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় উপযুক্ত সময়ে আবাদ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। তার ওপর সারের আকাশছোঁয়া দাম পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তুলেছে। এসব চ্যালেঞ্জ উৎপাদন বৃদ্ধির সক্ষমতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পড়তে পারেন: আবারো ভারতীয় গম আমদানি শুরু

বুয়েন্স আয়ার্স গ্রেইনস একচেঞ্জ কর্তৃক প্রকাশিত সাপ্তাহিক খাদ্যশস্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি শিগগিরই খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে আবাদ পূর্বাভাস আরো কমানো হতে পারে। কারণ প্রধান কৃষি উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় আবাদের সময় প্রায় শেষের দিকে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ