
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: হবিগঞ্জের সদর উপজেলায় শতাধিক চাষির মাথায় হাত। তাদের রোপণকৃত ধানের শীষ নেই। আশপাশের জমিতে আমন ধান পাকা শুরু করলেও তাদের জমিতে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ ধান গাছ, নেই শীষ।
উপজেলার বাগুনীপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ। মৌসুমের শুরুতেই উচ্চফলনশীন ধান চাষের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শায়েস্তাগঞ্জ হাসপাতাল সড়কের রুদ্ধ ট্রেডার্স বীজ কেনেন। ৯৫০ টাকায় ১০ কেজি ব্রি ধান-২২ এর বীজতলা করেন। এরপর রোপন করেন দেড় বিঘা জমিতে। পাইনিয়ার সিডের উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-২২ জাতের বীজ রোপণ করলেও ত্রুটি দেখা গিয়েছে।
তবে, উপজেলা কৃষি বিভাগ ভুক্তভোগী শতাধিক চাষির জমি পরিদর্শন ও ধানের শীষ না আসার কারণ খুঁজছেন। এদিকে কৃষকরা বলছেন, ধানের বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগ থেকে প্রতারকদের শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, দেড় বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করতে তার প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পূর্বের আমন মৌসুমে একই জমিতে প্রায় ৩২ মণ ধান পেয়েছিলেন। এবার এক কেজিও ফলন হবে না।
একই কথা জানান কৃষক তাহির মিয়া, মহিদ মিয়া, মো. শাহীন মিয়া, মো. সাদেক মিয়া, আব্দুল আহাদসহ অন্যান্য কৃষক।
কৃষক আব্দুল আলী মাস্টার বলেন, পূর্বের আমন মৌসুমে দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩৫ মণ পান তিনি। এ মৌসুমে একই জমি থেকে কোনো ধান পাবেন না। তাই কাঁচা ধানগাছ কেটে গরুকে খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রুদ্ধ ট্রেডার্সের ম্যানেজার বিপ্লব দাশ বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছেন না। কোনো অভিযোগ থাকলে দোকান মালিকের কাছে দিতে হবে। আর বীজ কোম্পানির লোকের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে। তাই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি ৩ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। লিখিতভাবে এ ধরণের অভিযোগ পাননি। তারপরও কয়েক দিনের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে জানেতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার সুকান্ত ধর এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ধানে ফ্লাওয়ারিং না হওয়ার বিষয়টি কৃষি বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে। কিছু কিছু গাছে ফ্লাওয়ারিং শুরু হয়েছে। হয়ত, একটু বেশি সময় নেবে।
বেসরকারি বীজ কিনে কৃষকরা প্রতারিত হলে করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যায়িত বীজ কিনতে হবে। ধান গবেষণা কেন্দ্রের অনুমোদিত ধানবীজ কিনতে হবে। অনেকে প্রতারিত হন বীজ সঠিক উৎস না জানার কারণে। কৃষকদের সতর্ক হতে হবে। ঐ জমিগুলো কৃষি বিভাগ পরিদর্শন করছে এবং দেখছে কৃষকদের ম্যানেজমেন্টের কোন ত্রুটি হয়েছে কিনা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























