কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রাম ঘিলাতলী। খাঁটি আখের গুড়ের জন্য গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘মিঠাই’ খ্যাত। এখানকার কৃষক আবু তাহের গত ১১ বছর ধরে নিজ জমির আখ থেকে গুড় তৈরি করছেন। তার বাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় করেন বিভিন্ন গ্রামের ক্রেতারা।

বাড়ির পাশের উঁচু ভিটায় বড় চুলায় আখের রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। লাল আগুনের তাপে ধীরে ধীরে রস ঘন হয়ে সোনালি রঙ নিচ্ছে। কাঠের দণ্ড দিয়ে তা নাড়ছেন আবু তাহের। তরল গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। পরিবারের এক নারী সদস্য তাকে কাজে সহায়তা করছেন। গরম গুড় ঠান্ডা হলে বক্সে ভরে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে।

সেখানে গুড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুনও।

নলকুড়ি গ্রামের ক্রেতা সোহেল মজুমদার বলেন, বাজারের বেশির ভাগ গুড়ে ভেজাল থাকে। তাই তিনি সরাসরি এখান থেকে কিনতে আসেন। চোখের সামনে খাঁটি গুড় তৈরি হতে দেখি। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিতে আপত্তি নেই। আগেও ২৫ কেজি নিয়ে স্বজনদের দিয়েছি, এবার বিদেশে পাঠাব।

কুন্দারঘোড়া গ্রামের আবু বকর শিবলী জানান, সাত বছর ধরে তিনি এখান থেকে গুড় কিনছেন। প্রথমবার নেওয়ার পর সবাই জিজ্ঞেস করেছিল কোথা থেকে এনেছি। এরপর অনেকেই আমার দেখাদেখি এখান থেকে নিতে শুরু করেছে।

কৃষক আবু তাহের জানান, একধরনের জেদ থেকেই তার গুড় তৈরি শুরু। প্রতিবেশী এক গ্রামে গিয়ে গুড় না পেয়ে নিজেই আখ চাষ ও গুড় তৈরির পরিকল্পনা করেন। ৭০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা উদ্যোগ এখন বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নিজের জমিতে আখ চাষ করি, বাড়িতেই আখ মাড়াই করি। সবার সামনে রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানাই। কোনো ফাঁকফোকর নেই। এবার ৩০ মণ গুড় উৎপাদন করেছেন বলে জানান তিনি। প্রথম বছর ১০ শতক জমিতে আখ চাষ করলেও এবার করেছেন ৮০ শতক জমিতে।

জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির খান বলেন, উপজেলায় প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়। অধিকাংশ কৃষক গুড় তৈরির জন্যই এ আখ চাষ করেন। অনেকে আগাম অর্ডারও দেন। গুড়ের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি আখের চাষও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।