ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় ছাড়ায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে ১৪০ টাকায় নেমেছে। তবে এখনো চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে বেগুনসহ অন্য সবজি। কমেনি মাছ, মাংস, ডিম, চাল, ডালের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, সেনপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, মালিবাগ ও টাউনহল বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কাঁচা মরিচের দাম কমলেও বেগুনসহ অন্য সবজি চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। তালবেগুন ২০০ টাকার কমে মেলে না। সবুজ গোল বেগুনও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পিস, শিম ১৬০ টাকা কেজি; পটোল, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা; করলা, ঝিঙে, কচুরলতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং মুলা ৬০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, গ্রীষ্মকালের এই সময়ে সরবরাহ সাধারণত কিছুটা কম থাকে। তবে শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তারা।

আজ প্রতি পিস জালি ৫০-৬০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পুঁইশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং কুমড়ো শাকের আঁটি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি আঁটি লালশাক ২০-২৫ টাকায়, কলমিশাক ১৫ টাকা, পালংশাক ৩০ টাকা, পাটশাক ২০ টাকায়, কচুশাক ২০ টাকা, মুলা শাক ২০ টাকা এবং ডাঁটা শাক প্রতি আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম কমছে না-
দেশে চাল আমদানি হলেও বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মজুমদার কোম্পানি, দাদা, ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেলের মিনিকেট চালের দাম আরো বেশি- ৮৫ টাকা। নাজিরশাইল ৯৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১২৫ টাকায় এবং লাল ডিম ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পাড়া-মহল্লায় একটু বেশি দামেই বিক্রির হয়। বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই সোনালি মুরগির কেজি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন বাজারে মসুর ডালের দামও চড়া। আগের মতোই ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজি আটার প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোলার দাম বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় এবং আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ দেখা যায়নি। এছাড়া আগের মতোই গতকালও বেশি দামে মাছ বিক্রি হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) কাচকি মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা; কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি, বাতাসি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই ও কাতলা মাছও ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা; পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারে ছোটোগুলো ১৮০ টাকা কেজিও বিক্রি হয়েছে।