
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ রোপণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। সাম্প্রতিক বিরূপ অভিজ্ঞতা কথা মনে রেখে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ রোপণ করা হচ্ছে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী।
সংসদে তিনি জানান, পেঁয়াজ চাষিদের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ভরা মওসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২০) পেঁয়াজ নিয়ে আইনসভায় সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে নিত্য প্রয়োজনীয় এই কৃষিপণ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী।
রাজশাহীর সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে সারা দেশে নানা ক্ষোভ, আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে।
দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ৩০-৩২ লাখ টন জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় ২৩-২৪ লাখ টন। বাকি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। গত মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় অনেক পেঁয়াজ ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যায়। আবার হঠাৎ করে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে বিরাট ঘাটতি হয়।
তিনি জানান, দেশের যেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি হয়, সেখানকার মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এ বছর টার্গেটের চেয়ে বেশি এলাকায় পেঁয়াজ রোপণ হচ্ছে। ২৩-২৪ লাখ টনের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হবে এবার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশের বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে আড়াইশ টাকায় ওঠে। এরপর মিশর, তুরস্ক ও চীন থেকে পেঁয়াজের বড় চালান আমদানির পাশাপাশি বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমতে থাকে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার আশপাশে আসে। তবে কিছুদিনের মধ্যে তা আবার বেড়ে যায়।
জাসদের শিরিন আখতারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজের দাম এ মুহূর্তে বেশি। তবে দাম ১১০ টাকা কেজি থাকবে না।
এই মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চাষিরা যখন পেঁয়াজ তোলেন, তখন দাম কমে যায়। দাম না পেয়ে কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এ বছর বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হয়েছে। যখন পেঁয়াজ তোলা হবে, তখন আমদানি বন্ধ থাকবে। যাতে চাষিরা ভালো দাম পান।
কৃষি মন্ত্রণালয় উভয় সঙ্কটে আছে মন্তব্য করে রাজ্জাক বলেন, “একদিকে আবাদে খরচ বেশি। দাম কম হলে বলা হয়, কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন না।
আবার অস্বাভাবিক দামও গ্রহণযোগ্য না। দাম বেশি হলে গরিব মানুষের সমস্যা হয়, দাম কমে গেলে কৃষকেরা সমস্যা। দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ রোপণ হচ্ছে সংবাদটির তথ্য বিডিনিউজ২৪.কম থেকে নেয়া হয়েছে।
























