এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রিপোর্টার, পাহাড় থেকে সমতল, যেদিকে চোখ যায় হাওয়ায় দুলছে শিমের সবুজ লতা ও বেগুনি রঙের ফুল। শীতকালীন এই সবজি বেশি পরিমাণ আবাদের কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাকে বলা হয় ‘শিমের রাজ্য’। এখানে সারাবছর নানা ধরনের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় শিম। এ বছর এই সবজির উৎপাদন বেড়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের আশা, এবার ১০০ কোটি টাকার বেশি শিম বিক্রি হবে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে উৎপাদিত শিম দেশের চাহিদা পূরণ করে ইউরোপ-আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শিমের বাম্পার ফলনের সঙ্গে ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি কৃষক। এখানে সাত প্রজাতির শিমের চাষ হয়ে থাকে। সেগুলো হলো– কার্তিকোটা, কার্তিকবাটা, বাটা, পুঁটি, ছুরি, লইট্টা ও রূপবান। এর মধ্যে রূপবান গ্রীষ্মকালীন এবং ছুরির ফলন হয় সারাবছর। কয়েক বছর ধরে এ জাতের শিম চাষ শুরু হয়েছে। অন্যান্য শিম শীত মৌসুমে হয়ে থাকে।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, সৈয়দপুর, পৌর সদর, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, শীতলপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় শুধু শিম আর শিম। কৃষকরা জানান, সীতাকুণ্ডের শিম স্বাদেও অতুলনীয়। এখান থেকে পাইকাররা শিম কিনে শিম ও বিচি পৃথকভাবে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি করেন। এতে তারাও যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, তেমনি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল গ্রামের কৃষক মো. মানিক কার্তিকোটা শিম চাষ করেছেন ৯০ শতাংশ জমিতে। খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। গত এক মাসে তিনি প্রায় দুই লাখ টাকার শিম

বিক্রি করেছেন। আরও লক্ষাধিক টাকার শিম বিক্রি হবে।

পৌরসভার নুনাছড়া এলাকার কৃষক নুর নবী জানান, তিনি প্রায় ১৫০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। অগ্রিম চাষ করায় নভেম্বর থেকে শিম বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকায়ও বিক্রি করেছেন। এখন কেজি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত তিনি শিম বিক্রি করেছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার।

সরেজমিন দেখা যায়, কুমিরা ইউনিয়নের রেলওয়ের পুরোনো টিবি হাসপাতাল এলাকা থেকে পূর্বদিকে তিনটি পাহাড়ের ঢালু অংশে শিমের চাষ হয়েছে। সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চৌধুরীপাড়া, হাসান গোমস্তা-সংলগ্ন এলাকায়ও অনেক কৃষক রূপবান শিমের চাষ করেছেন। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের দিকে ঢালু অংশে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে খুঁটি তৈরি করে মাচা বানানো হয়েছে। এর পর প্রতিটি খুঁটির গোড়ায় তিনটি শিমগাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি মাচা এখন বেগুনি ফুলে ভরা। একদিকে শিম তুলছেন কৃষক, অন্যদিকে ফুল আসছে।

বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী জানান, উপজেলার পাঁচ হাজারের বেশি কৃষক শিম চাষ করেন। উত্তরের নুনাছড়া থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত সর্বাধিক শিম উৎপাদন হয়। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই ধারে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টন শিম উৎপাদন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবীবুল্লা বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে শিমচাষিদের সার, বীজ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। এবার শীত মৌসুমে ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। উৎপাদন

হয়েছে ৪২ হাজার টন। গতবার ৮৫ থেকে ৯০ কোটি টাকার শিম বিক্রি হয়েছিল। এবার ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার শিম বিক্রি হতে পারে।