
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চা শ্রমিকদের নতুন মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ১২০ টাকা। দৈনিক ১৪৫ টাকা মজুরি মেনে নিয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা।
শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের অফিসে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে নতুন এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল নতুন মজুরি ও চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরাসহ বিভিন্ন ভ্যালির সভাপতি-সাধারণসহ শ্রমিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
পড়তে পারেন: মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী শ্রেণীর হাতে চালের দামে কারসাজি!
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল গণমাধ্যমকে বলেন, চা-শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে সরকারের এই প্রস্তাব শ্রমিকেরা মেনে নিয়েছেন।
নিপেন পাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবকে সম্মান দেখাতে গিয়ে প্রস্তাবিত ১৪৫ টাকা মজুরি মেনে নিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শ্রমিকরা। রোববার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। তাছাড়া কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আশ্বস্ত হয়েছি, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফিরে চা শ্রমিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, জুন মাসে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু মালিকপক্ষ ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়। শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ঢাকায় বৈঠকে আরও ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়।
পড়তে পারেন: কৃষি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসে চাকরির সুযোগ
এরপর আরও এক মাস পার হলেও মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর প্রতিবাদে ৯-১২ আগস্ট টানা চার দিন প্রতি দিন দুই ঘণ্টা করে ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিকরা। তারপরও মালিকপক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কথা না বলায় ১৩ আগস্ট থেকে দেশের সব চা-বাগানে শুরু হয় শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে ১০ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। শুরুতে প্রথম কয়েকদিন কেবল ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। সে সময় মজুরি বৃদ্ধি ও মজুরি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সাতদিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়। কিন্তু মালিক পক্ষ এ সময়ের মধ্যে বৈঠক বা সমঝোতায় না আসায় ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। এর মধ্যে জাতীয় শোকদিবসের দিন কেবল বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ থাকে।
চা বাগানগুলোয় সৃষ্ট সংকট সমাধানে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক ডাকে শ্রম অধিদপ্তর। গত সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে আন্দোলনরত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে মজুরি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু শ্রমিক নেতারা মজুরি বাড়ানোর দাবি মেনে নেয়া ছাড়া ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























