
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সরবরাহ সংকটের উদ্বেগে ছয় বছরের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে চিনির দাম। আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে চিনির দাম বেড়ে এমন আকাশছোঁয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ছয় বছরের সর্বোচ্চে চিনির দাম বাড়ার বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
ডিলাররা বলছেন, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোয় আখ সংগ্রহ ও মাড়াই কার্যক্রমে বিলম্বের কারণে সংকটের উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ব্রাজিলে আখ সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিইতে অপরিশোধিত চিনির দাম দশমিক ৪ শতাংশ বা দশমিক শূন্য ৯ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি পাউন্ডের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৮ সেন্টে। কার্যদিবসের শুরুতে দাম ২১ দশমিক ১৮ সেন্টে উঠে এসেছিল, যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সাদা চিনির দাম দশমিক ১ শতাংশ বা ৮০ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৭২ ডলার ১০ সেন্ট। এদিকে চিনির পাশাপাশি কফি ও কোকোর দামও বেড়েছে।
এদিকে চিনি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে উৎপাদন ঘাটতি, ইউরোপে বৈরী আবহাওয়াসহ সৃষ্ট নানা সংকট দেখা দিয়েছে। শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন ঘাটতির কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভারতীয় চিনির চাহিদা।
এ পরিস্থিতিতে গত বছর রেকর্ড ১ কোটি ১২ লাখ টন চিনি রফতানি করে ভারত। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও বিপুল পরিমাণ চিনি রফতানির প্রত্যাশা করেছিলেন ভারতীয় মিল মালিকরা। তবে দেশের বাজারেও ক্রমাগত চাহিদা বাড়তে থাকায় ভারত সরকার মিলভিত্তিক রফতানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়।
ধাপভিত্তিক রফতানি লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেয়া হয়। সে হিসেবে এবার প্রথম পর্যায়ে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানি করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এটাও প্রত্যাশা করছেন, প্রথম পর্যায়ের রফতানি শেষ হলে সরকার আরো ২০ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমতি দেবে।
উল্লেখ্য, গত বছর তীব্র খরা ও তুষারপাতের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চিনি উৎপাদন করতে পারেনি দেশটি। আরেক চিনি উৎপাদক অঞ্চল ইউরোপেও বৈরী আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারকদের রফতানি গন্তব্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে ভারত। গত বছর থেকেই চিনি উৎপাদন বাড়াচ্ছে দেশটি। যেসব দেশে উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে সেগুলোর বড় বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় ভারত।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত আগামীতে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিণত হতে চায়। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই এগিয়ে চলেছে দেশটি।
এমইআইআর কমোডিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহিল শেখ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চিনির দারুণ কদর রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চিনি রফতানির বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি করবে ভারত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন ঠিক থাকলে, ২০২৩ সালের মার্চের শেষ নাগাদ চুক্তি অনুযায়ী ৬০ লাখ টন চিনি রফতানি শেষ হবে। ভারতীয় চিনির সবচেয়ে বেশি চাহিদা চীন, বাংলাদেশ ও হর্ন অব আফ্রিকা হিসেবে খ্যাত দেশগুলোয়।
চিনির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কয়েক সেন্ট বেড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে ভারতীয় চিনির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অনেক মিল মালিকই রফতানির জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে দর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
রফতানিকারকরা বলছেন, এখন রফতানি মূল্য আগের চেয়ে বেশি। তবে অতীতে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে কম দামে চিনি রফতানি করা হতো।
একজন রফতানিকারক বলেন, এটি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার চেয়েও বড় সমস্যা। ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা দিন শেষে বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে, এর কারণে ভবিষ্যতে চুক্তিসংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























