
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সারাদেশে ডিম-মুরগির দাম নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। গত কয়েকদিন আগে রেকর্ডে পৌঁছায় পোল্ট্রি পণ্যের দাম। খুচরা বাজারে একটি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা দামে। মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি। আসলে একটি ডিম কিংবা ১ কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কত তা জানিয়েছে বাংলাদেশে পোল্ট্রি খামারি রক্ষা পরিষদ (বিপিকেআরজেপি), বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাট্র্জি সেন্ট্রাল কাউন্সিল ও পোল্ট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ (পিপিবি)।
আজ ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা পরিষদ পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট নিয়ে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মোসাদ্দেক হোসেন। পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে খাত নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে প্রান্তিক খামারিদের কথা, উৎপাদন খরচ, বিপণন ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের কথা।
পোল্ট্রি খাদ্যের বর্তমান বাজার
পোল্ট্রি খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টার দাম বেড়েছে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ৩৭ শতাংশ বেড়ে ২৪ টাকার ভুট্টা এখন ৩৩ টাকা। এছাড়া সয়াবিন মিল ৩৭ টাকা থেকে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে অর্থ্যাৎ বেড়েছে ৮৮ শতাংশ। চালের কুড়া ২‘১ টাকা থেকে ৩৬ টাকা যার শতাংশ হিসেবে বেড়েছে ৭৭। পোল্ট্রি মিল ৫৪ টাকা থেকে লাফিয়ে হয়েছে ৮০ টাকা যা বেড়েছে ৮৪ শতাংশ।
আলোচকরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে ডিম ও মুরগির মাংসের মূল্য নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে, কিন্তু যে সকল উপকরণ দিয়ে খাদ্য তৈরি করা হয় তার বর্তমান বাজার মূল্য জানলে এতটা সমালোচনা করতেন না কেউ। পোল্ট্রি খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোর দাম বেড়েছে অসম্ভব। আরো দশবারটি ভিটামিন আছে, যে গুলো পুরোপুরি আমদানি নির্ভর, ডলারের দাম বাড়ার কারনে এগুলোর দাম আকাশ ছোঁয়া।
পড়তে পারেন: ডিম মুরগির দাম বাড়ার আসল কারণ!
এ সকল উচ্চ মূল্যের উপকরণ দিয়ে তৈরিকৃত প্রতি কেজি ব্রয়লার ফিডের মূল্য ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা এবং লেয়ার ফিডের মূল্য ৫৬ – ৫৭ টাকা। করোনাকালের তুলনায় প্রতিবস্তা খাদ্যে বেড়েছে ৮০০ থেকে প্রায় ১২০০ টাকা।
এ বিষয়ে দেশের বৃহৎ পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাজী ফিডের বিপনন বিভাগের প্রধান সালাউদ্দিন হাওলাদার এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে জানান, বর্তমানে ব্রয়লার স্টার্টার ফিড ৩ হাজার ২৮৫ টাকা যা প্রতি কেজি হিসেবে ৬৫ টাকা ৭০ পয়সা, ব্রয়লার গ্রোয়ার ৩ হাজার ৩২০ টাকা, ব্রয়লার পুলেট ৩ হাজার ২৮০ যা কেজি হিসেবে ৬৫ টাকা ৬০ পয়সা কেজি এবং ব্রয়লার ফিনিশার ৩ হাজার ২৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার খাদ্যের দাম বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। খুচরা ও ডিলার পর্যায়ে কোথাও কোথাও দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে লেয়ার স্টার্টার ২ হাজার ৮৯৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩ হাজার ২০২ টাকা, লেয়ার গ্রোয়ার ২ হাজার ৭৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯০২ টাকা ৫ পয়সা, প্রি লেয়ার ২ হাজার ৭৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮৯৯ টাকা, লেয়ার লেয়ার ২ হাজার ৭২০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮২৭ টাকা, লেয়ার লেয়ার ২ দুই হাজার ৬৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, কাজী সোনালী স্টার্টার ফিড এবং গ্রোয়ার ফিডে আগের দামের তুলনায় দাম বেড়েছে ২টাকা থেকে ২ টাকা ৬০ পয়সা।
ডিম-মুরগি উৎপাদনে খরচ
বাংলাদেশে পোল্ট্রি খামারি রক্ষা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, খামারী পর্যায়ের প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৯.৫০ – ৯.৭৫/৯.৯১ টাকা। সেইসাথে প্রতি কেজি ব্রয়লার মাংসের উৎপাদন খরচ: ১৪০-১৪৫ টাকা। অথচ ২০২১ সালে একটা বাদামি ডিম উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭ টাকা ২৬ পয়সা এবং সাদা ৬ টাকা ৩০ পয়সা। অন্যদিকে ব্রয়লার ১ কেজিতে খরচ ছিল ৯৯ টাকা ১৬ পয়সা। মাত্র বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালে এসে একটা বাদামি ডিম উৎপাদনে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৭৩ পয়সা এবং সাদা ৯ টাকা ৪০ পয়সা। প্রতিকেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ বেড়ে হয়েছে ১৪৫ টাকা ৬৫ পয়সা।
এছাড়া খামারে রোগবালাই, চিকিৎসা ও ভাইরাস জনিত রোগে পুরো ফার্মের মুরগী মরে যাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া ব্যাংক লোনের সুদ, আসলের কিস্তি, ডিপ্রিসিয়েন খরচ ইত্যাদির হিসাব ছাড়াই, নরমালি কোন ঝামেলা ছাড়া প্রতি দিনের খরচ হিসাবে বর্তমানে খামারিরা ডিমের যে দাম পায় তাতে খরচ উঠে না।
সারাদেশের অন্তত ২০টি অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ডিম-মুরগির দাম ক্রমাগম কমছে। অন্যদিকে একদিন বয়সী বাচ্চার দাম বাড়ছে। বাচ্চার দাম বাড়ার হার ৪-৮ শতাংশ। অন্যদিকে ডিম-মুরগির দাম কমার হার ১৫ থেকে ৩০ শতাংশের মতো।
খামারিরা বলছেন, বিগত আড়াই বছর ধরে পোল্ট্রি খামারিরা তেমন লাভের মুখ দেখেননি। অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন ব্যবসা, তালা ঝুলিয়েছেন খামারে। তবে, গত দু-সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম-মুরগির দাম আশানুরুপ বেড়েছে। ফলে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন, হয়েছেন খুশি। তবে বর্তমানে দাম কমতে থাকায় হতাশা দেখা দিয়েছে।
পড়তে পারেন: ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণ করে কারা, কেন ধরা খায় খামারিরা?
খামারিদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে ডিমের দাম কমছে সেইসাথে মুরগির দাম কমছে কিন্তু খুচরা বাজারে ঠিকই তারা ব্যবসা করছে। লাভ করছে নিজের মতো। আগের দামেই বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজার মনিটরিংয়ের দিকে নজর দিতে বলছেন অনেকেই।
আসলে ডিম-মুরগি উৎপাদন নিয়ে রাজশাহীর পব্ াউপজেলার পারিলা এলাকার লেয়ার খামারি আব্দুল মজিদ এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, গত দুই বছর ধরে পাঁচ-ছয় দফায় পোল্ট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। আমরা লোকসানে লোকসানে শেষ হয়ে গেছি। গত মাসেও খাদ্যের দাম বেড়েছে। আগে ১৯’শ টাকায় যে খাদ্য কিনেছি সেই খাদ্য এখন ৩২’শ ৫০ টাকা বস্তা। ডিমের খরচ পড়ছে ৯ টাকার উপরে আর বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এই লোকসান কে পুষিয়ে দেবে প্রশ্ন রাখেন তিনি। আজ ২২ আগস্ট খামারে লাল ডিমের পাইকারি রেট ৮’শ ৬০টাকা। সাদা ডিম সাড়ে ৮শ ২০ টাকা । এটা একশ ডিমের দাম। আবার দাম কমতে শুরু হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই খামারি।
কারা কারসাজি করছে
দেশে গত দুই সপ্তাহে ডিম-মুরগির দাম বাড়ার হিড়িকে পোল্ট্রি খাতের কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা ভোক্তা ও ক্ষুদ্র খামারিদের কাছ থেকে ৫২০ কোটি লোপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’। ক্ষুদ্র খামারিদের এ সংগঠনের নেতারা গত শনিবার (২০ আগস্ট ২০২২) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নানা তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার। তিনি বলেন, দেশে পোল্ট্রি খাতটি এখন মাফিয়া চক্রের হাতে চলে গেছে। কাজী ফার্মস, প্যারাগন, সিপি, নারিশ, ৭১, আফিল, সাগুনাসহ ১০ থেকে ১২টি বড় কোম্পানি যৌথভাবে এই মাফিয়া চক্র তৈরি করেছে। চক্রটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে প্রান্তিক খামারিদের ধ্বংস করতে চাইছে। এরই মধ্যে তাদের পরিকল্পিত চক্রান্তে সারাদেশে প্রায় অর্ধেক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
সুমন হাওলাদার জানান, বর্তমানে এক বস্তা ফিড প্রান্তিক খামারিকে কিনতে হলে লাগে ৩৩০০ টাকা, কিন্তু কোনো খামারি তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং করলে ওই বস্তা পাওয়া যায় ২৫০০ টাকায়। অর্থাৎ তারা বস্তা প্রতি ফিডে লাভ করছে ৮০০ টাকা। তারা প্রতিটি ডিমে লাভ করছে তিন টাকা এবং প্রতিটি ব্রয়লারের বাচ্চা বিক্রি করে লাভ করছে ২০ থেকে ২২ টাকা।
সুমন হাওলাদার জানান, দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা সাড়ে চার কোটি পিস। এর মধ্যে বড় কোম্পানিগুলোই এই চাহিদার আড়াই কোটি সরবরাহ করে। প্রতি ডিমে তিন টাকা করে বেশি নিয়ে প্রতিদিন সাত কোটিরও বেশি টাকা তারা অবৈধভাবে লাভ করেছে। এভাবে গত ১৫ দিনে বড় কোম্পানিগুলো ডিমের বাজার থেকে ১১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
পড়তে পারেন: ডিম-মুরগির দাম শীঘ্রই বাড়ার সম্ভাবনা
‘অন্যদিকে দেশের ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এভাবে প্রতিদিন ১৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি মজুত সংকট তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তা ছেড়ে প্রতি কেজিতে বাড়তি নিয়েছে ১৫ টাকা। এর মাধ্যমে গত ১৫ দিনে তারা ১৭২ কোটি টাকার বেশি ভোক্তার পকেট কেটেছে। এছাড়া প্রতিদিন এক কোটি ৩০ লাখ বাচ্চা বিক্রি থেকে গত ১৫ দিনে ২৩৪ কোটি টাকা অবৈধ মুনাফা করেছে।’
পোল্ট্রি খামারিরা সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচবে কিনা
বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোহসিন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পোল্ট্রি খামারিদের দেখার কেউ নাই। সরকারের উচিত পোল্ট্রি সেক্টরকে তদারকি করা। এদিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। যদি এখন এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে পোল্ট্রি খামারিরা নিঃস হয়ে পড়বে। লোকসানে জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে যাবে। কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে যাবে কোটি জনগণ। তখন তাদের বেঁধে দেওয়া দামেই ডিম-মুরগি কিনতে হবে।
তিনি আরোও বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সচেতন হয়ে পোল্ট্রি ব্যবসায় আসা প্রয়োজন। অনেক সময় মুরগি মারা যাওয়ার ফলে লোকসান গুণতে হয় খামারিদের। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া পোল্ট্রি খাদ্য তৈরির কাঁচামাল সয়াবিন, ভুট্টাসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেক্ষেত্রে প্রডাকশন কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে আমাদের ওপর। খাদ্যের মানও আগের মতো নেই। ডিম কম পাওয়া যাচ্ছে। ইউরোপ ও চীন থেকে মূলত এসব পণ্য আমদানি করতে হয়।
কর্পোরেট সিন্ডিকেট থেকে বের হওয়ার কোন পথ আছে কিনা জানতে চাইলে এই সংগঠক বলেন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের পক্ষ থেকে সারাদেশে জেলা-বিভাগে প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় খামারিদের নিয়ে কমিটি করা হচ্ছে। যারা তাদের নিজের খামারে উৎপাদিত পণ্যের দাম নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন।
কথা হয় রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকের সাথে। তিনি এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, চারিদিকে সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে ডিম-মুরগির দাম কমানো ঠিক হয়নি। অবহেলিত এ খাতের দিকে কারো চোখ নেই। রাজশাহীতে করোনায় ৭০ ভাগ খামার বন্ধ। মাঝখানে উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে গেলো, কারণ ভুট্টা, সয়াবিন মিল, প্রোটিনের দাম বেড়েছে।
রেডি মুরগি তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৩৫ টাকা। আর বিক্রি করতে হয় ১৪০ টাকা। কোন সময়ে তাও পাওয়া যায় না। বাচ্চার দাম বাড়ছে। খামারিদের মাথায় হাত পড়েছে কারণ যারা ইনভেস্ট করেছেন তারা বের হতে পারছেন না। বর্তমানে লেয়ার মুরগির বাচ্চা খামারিরা তুলতে শুরু করেছেন তাই সিন্ডিকেট বাচ্চার দাম আরো বাড়াচ্ছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদী এই প্রজেক্ট। কোম্পানিগুলো ব্যবসা ঠিকই করছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























