
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়র তেঁতুলিয়া এখন আর শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের জন্য পরিচিত নয়; রঙিন টিউলিপে সেজে উঠেছে যেন একখণ্ড নেদারল্যান্ডস। সীমান্তঘেঁষা দর্জিপাড়া গ্রামে পঞ্চমবারের মতো ফুটেছে রাজকীয় এই ভিনদেশি ফুল। ফলে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
টিউলিপ বাগানে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন সাজে নান্দনিক প্রবেশপথ। ভেতরে ঢুকতেই ৬০ শতক জমির খামারভিত্তিক বাগান যেন জীবন্ত ক্যানভাস। সেখানে লালিবেলা (লাল), ডেনমার্ক, স্ট্রং গোল্ড (হলুদ), মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি)সহ পাঁচ রঙের প্রায় ১৪ হাজার টিউলিপ রাজকীয় ভঙ্গিতে দুলছে। সূর্যের আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে বিশেষ শেড, যা বাগানটিকে দিয়েছে স্নিগ্ধ ও নান্দনিক রূপ।
টিকিট কেটে বাগানে প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ প্রিয়জনের হাতে তুলে দিচ্ছেন টিউলিপ, কেউবা সেলফিতে বন্দি করছেন রঙিন মুহূর্ত।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে ১০ জন প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তার শ্রমে গড়ে উঠেছে এই খামার। ২০২২ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া উদ্যোগটি এখন স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
চাষি রবিউল ইসলাম জানান, নেদারল্যান্ডস থেকে প্রতিটি বাল্ব আনতে প্রায় ৮০ টাকা খরচ পড়ে। প্রতিদিনের পরিচর্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে এই ফুল ফোটাতে হয়। প্রতিটি স্টিক ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং চাহিদাও বেশ। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাতেও পাঠানো হচ্ছে টিউলিপ।
টিউলিপ মূলত শীতপ্রধান দেশের ফুল। দিনের বেলায় ১৫ ডিগ্রি ও রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযোগী। রোপণের ১৮-২০ দিনের মধ্যে কলি আসে এবং অনুকূল আবহাওয়ায় ফুল ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া টিউলিপ চাষের জন্য অনুকূল প্রমাণিত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এই ফুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে টিউলিপ চাষ সম্প্রসারণ করা যায়।
ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, ক্ষুদ্র চাষিদের স্বাবলম্বী করা এবং বিদেশ থেকে টিউলিপ আমদানি কমানোই তাদের লক্ষ্য। পাঁচ বছর আগে শুরু করা স্বপ্নযাত্রা এখন বাস্তব রূপ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তেঁতুলিয়ায় ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বাসস
এগ্রিকেয়ার/আরিফ
























