
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, তেলে কারসাজি করে বাজার থেকে এক হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ।
তিনি বলেন, মিল মালিক বলছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা বলছে, এক মাস ধরে অর্ডার (এসও) কেটে তেল পাচ্ছে না। যা ১৫ দিনের মধ্যে পাওয়ার কথা। এর ফলে বাজারে দেখা দিয়েছে ভোজ্য তেলের সংকট। বাধ্য হয়ে ভোক্তাদের কয়েকদিন ধরে বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার থেকে এ বিপুল অংকের টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এই টাকা কে, কীভাবে নিল তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
পড়তে পারেন: কোন তেল ব্যবহার করবেন-সয়াবিন নাকি সরিষা?
আজ বুধবার ভোজ্য তেলের সরবরাহ ও মুল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মিল মালিক ও বাজার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন মিল মালিক প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মিলাররা বলছে তারা সরকারি রেটে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ দিচ্ছে। আবার ডিলাররা বলছেন তারা আগামী রোজার আগে লাভই করবেন না। তাহলে তেলের বাজারে অস্থিরতা কেনো? বাজার থেকে এক হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।
সে এক হাজার কোটি টাকা কে উঠিয়ে নিয়েছে সেটা আমাদের দেখতে হবে। যাতে আগামীতে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিতে না পারে। বাজার স্থিতিশীল করতে আমরা সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু পেছনের দিকেও দেখতে হবে কে বা কারা এক হাজার কোটি টাকা তুলে নিল।
পড়তে পারেন: সূর্যমুখী তেল আমদানি বন্ধ করেছে ভারত
মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ বার্ষিক ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। সে হিসেবে প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টনের চাহিদা। তবে রোজার মাসে তেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে আড়াই লাখ টনে উন্নীত হয়। রিফাইনারিগুলোর বছরে ক্যাপাসিটি রয়েছে ৫০ লাখ টন। অর্থাৎ দেশে রিফাইনারির পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।
দেশে ভোজ্য তেলের মজুদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে টিসিবির কাছে ৪ কোটি লিটার তেল রয়েছে। এখান থেকে রোজার আগে ও রোজার মধ্যে এক কোটি পরিবারকে চার লিটার করে ভর্তুকি মূল্যে তেল দেয়া যাবে। অর্থাৎ টিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৮ হাজার টন তেল দেয়া হবে।
এ মুহূর্তে মিলকলগুলোতে দুই লাখ টনের মজুদ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টন তেল দেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো এ মাসের মধ্যে দেশে চলে আসবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে ভোজ্যতেলে কোনো সংকট নেই। বর্তমানে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। যেটা এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। এখনো মিলমালিক, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা একে অন্যকে দোষারোপ করছে।
বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেয়া হয়। এগুলো হলো: এখন থেকে ডিলারদের কাছ থেকে যতগুলো এসও দেয়া হবে সেগুলো মূল্য লিখতে হবে। এখন পর্যন্ত মিল মালিকরা ডিলারদের যতগুলো এসও দিয়েছে সেগুলোর বিপরীতে আগামী ২৪ মার্চের মধ্যে তেল ডেলিভারি দিতে হবে। তেল দেশের বাইরে যায় কিনা এ নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা বিভাগ ও বিজিপিকে চিঠি দেয়া হবে। কারণ অনেকে অভিযোগ করছেন যে, দেশ তেল বাইরে চলে যাচ্ছে।
এছাড়া মিলগেইটে ট্রাকের সিরিয়ালের জন্য ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এসেছে সেটি নিয়ন্ত্রণের সংশ্লিষ্ট ডিসি এবং এসপিদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়াও ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মিলগুলোতে যাবে। তাদের দেয়া তথ্য ও প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























