অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের বাজারে শুকনো মরিচের দাম রেকর্ড গড়েছে। তথ্য বলছে, ইতিহাসের সর্বোচ্চে দামে বিক্রি হচ্ছে শুকনা মরিচ নামের এ মসলাপণ্য।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে দেশে শুকনো মরিচের দাম নির্ভর করত পাইকারি বাজার ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপারীদের ওপর। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের করপোরেট কোম্পানিগুলো উৎপাদন মৌসুমে আগাম মরিচ কিনে মজুদ করে রাখায় স্থানীয় পর্যায়ে সংকট দেখা দেয়। এ কারণে কৃষকরা প্রকৃত মূল্য না পেলেও ভোক্তা পর্যায়ে এসে শুকনো মরিচের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের মাটিতে মসলাপণ্যটির উৎপাদন নিম্নমুখী। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি অব্যাহত কমছে প্রতিনিয়ত। অর্থাৎ চাহিদার অনুপাতে পণ্যটির সরবরাহ অপ্রতুল। এ কারণেই বাজারদরে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তারা আরো বলছে, আমদানির ওপর এলসি জটিলতাসহ নানা কারণে দেশে ঢুকছে না চাহিদামতো মরিচ।

দেশে শুকনো মরিচের সবচেয়ে বেশি সরবরাহ হয় পঞ্চগড়, কুমিল্লা, ভোলা, চট্টগ্রাম, রায়পুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি হওয়া মরিচও দেশীয় চাহিদা মেটায়। তবে ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদামতো দেশীয় উৎপাদন না হওয়ায় রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্যটি।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

ভারতীয় শুকনা মরিচের কেজিতে কমেছে ৪০ টাকা

শুকনা মরিচের কেজিতে কমলো ৮০ টাকা

দাম বেড়েছে শুকনা মরিচের, কমেছে তেলের

শুকনা মরিচের কেজিতে বেড়েছে ৩৫ টাকা

একসময় শুকনো মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে। করোনাকালীন আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন সংকটে পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে শুকনো মরিচের কেজিপ্রতি দাম সর্বনিম্ন ৩৫০-৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আসন্ন রমজানের আগে বাড়তি সরবরাহ না হলে পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে সরবরাহ করা শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে ৩৯০ টাকা, পঞ্চগড়ের মরিচ ৪১০ টাকা, রায়পুরের মরিচ ৪৩০ টাকা ও হাটহাজারীর মরিচ ৫০০ টাকায়। এছাড়া আমদানীকৃত ভারতীয় মরিচ বিক্রি হচ্ছে (গুজরাটি) ৩৬০-৩৭০ টাকায়। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকায়।

রবি মৌসুমের দেশীয় মরিচ সরবরাহ শুরু হতে অন্তত দেড়-দুই মাস সময় লাগবে। চাহিদা বিবেচনায় মিয়ানমার থেকে আমদানি শুরু হলে বাজারদর কিছুটা কমে আসে। তবে সম্প্রতি দেশটি থেকে আমদানি কমেছে। ভারতের সরবরাহও নিম্নমুখী। এ কারণে আবারো বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। দেশীয় উৎপাদন না বাড়লে মরিচের বাজার আরো চড়া হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারি পর্যায়ে মরিচের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকটে আমদানি অনেকটাই স্থবির। আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা ধরে রাখতে মজুদ প্রবণতা বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে এরই মধ্যে চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স বাঁচা মিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সেকান্দর বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার অনুপাতে মরিচের উৎপাদন বাড়ছে না। আমদানির মাধ্যমেই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ভারতে বন্যাজনিত কারণে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে। দেশটি থেকে পর্যাপ্ত শুকনো মরিচ আমদানি করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বর্তমানে ডলার সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এসব কারণেই বাজারে স্থিতি ফিরছে না। চলতি মৌসুমে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন বাড়লে আগামী বছর বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ