নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশে গত ১২ বছরে গম ও ভুট্টার উৎপাদনের সাফল্য তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৭ লক্ষ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। কিন্তু ভুট্টার প্রক্রিয়াজাত খুবই কম।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে কর্নফ্লেক্স, সিরিয়ালের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ভুট্টা থেকে প্রক্রিয়াজাত করে স্থানীয়ভাবে কর্নফ্লেক্স, সিরিয়াল তৈরির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ দরকার।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপির সাথে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) প্রতিনিধিদল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলে সিমিটের কান্ট্রি প্রতিনিধি টিমোথি জে. ক্রুপনিক, কান্ট্রি হেড (প্রশাসন) রায়হান সাদাত, ক্রপিং সিস্টেম এগ্রোনমিস্ট মহেশ কুমার গাথালা, বাকৃবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিমিটের কনসালটেন্ট এমএ সাত্তার মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সিমিটের কান্ট্রি প্রতিনিধি টিমোথি জে. ক্রুপনিক জানান বাংলাদেশে লবণাক্ততা, চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ বা ঘাতসহনশীল গম ও ভুট্টার জাত উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সিমিট। একইসাথে, দেশে গম ও ভুট্টার টেকসই উৎপাদনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে একত্রে কাজ করবে।

কেলগসের মতো প্রতিষ্ঠান যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সে বিষয়ে সিমিটের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আছে, এদের সাথে কেলগস যৌথভাবেও বিনিয়োগ করতে পারে। এ বিষয়ে সিমিট উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানান সিমিটের কান্ট্রি প্রতিনিধি টিমোথি জে. ক্রুপনিক।

ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশের মতো কৃষি প্রধান দেশে ভুট্টার চাষ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ভুট্টার চাষ দিন দিন বাড়ছেই। কিন্তু উন্নতমানের ভালো ভুট্টার জাত নির্বাচন না করায় চাষিরা তেমন ভালো ফলন পান না। এতে অনেক চাষি হতাশ হন। ভুট্টার অধিক ফলনশীল কয়েকটি জাত সম্পর্কে জানা জরুরি।

ভুট্টার অধিক ফলনশীল কয়েকটি জাত:

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৫: আমিষ সমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাত যা ২০০৪ সালে অনুমোদন করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০-১৪৫ দিন ও খরিপ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিন। জাতটির দানা উজ্জ্বল আকর্ষণীয় কমলা রঙের, ফ্লিন্ট প্রকৃতির এবং হাজার দানার ওজন ২৯০-৩১০ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৯-১০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৭-৭.৫ টন।

পড়তে পারেন: ভুট্টার চারা গাছের কাটুই পোকা দমনে যা করবেন

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৭: ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র হতে সংগ্রহীত ও বাছাইকৃত পিতৃ-মাতৃ লাইন হতে একমুখী সংকরায়ণ করে জাতটি উদ্ভাবিত করা হয়েছে। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪১ দিন ও খরিপ মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন।

আরও পড়ুন: ব্রাসেলস স্প্রাউট: নতুন ফসল- নতুন সম্ভাবনা

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৯: ২০০৭  সালে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র হতে সংগ্রহীত ও বাছাইকৃত পিতৃ-মাতৃ লাইন হতে একমুখী সংকরায়ণ করে এ জাতটি উদ্ভাবিত করা হয়েছে।   এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪৫-১৫০ দিন ও খরিপ মৌসুমে ১০৫-১১০ দিন। জাতটির দানা আকর্ষণীয় হলুদ রঙের, ডেন্ট প্রকৃতির এবং হাজার দানার ওজন ৩৭০-৩৭৫ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ১১.৫-১২.৫ টন।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১০: ২০০৯  সালে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র হতে সংগ্রহীত ও বাছাইকৃত পিতৃ-মাতৃ লাইন হতে একমুখী সংকরায়ণ করে এ জাতটি উদ্ভাবিত করা হয়েছে। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪৫-১৫০ দিন ও খরিপ মৌসুমে ১০০-১১০ দিন। জাতটির দানা আকর্ষণীয় হলুদ রঙের, ফ্লিন্ট প্রকৃতির। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ১০-১১.৫ টন।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১১: ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র হতে সংগ্রহীত ও বাছাইকৃত পিতৃ-মাতৃ লাইন হতে একমুখী সংকরায়ণ করে এ জাতটি উদ্ভাবিত এবং অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৫০-১৫৫ দিন। জাতটির দানা হলুদ রঙের, ফ্লিন্ট প্রকৃতির। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ১০.৫-১১.৫ টন।

আরও পড়ুন: দেশে এবার ভোজ্য তেলের যোগান দিতে নতুন ফসল ‘সাউ পেরিলা-১’

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১২: স্বল্প সেচে উৎপাদনক্ষম এবং মধ্যমাত্রার খরা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল সাদা দানা বিশিষ্ট ফ্লিন্ট প্রকৃতির জাত। এটি ২০১৬ সালে অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০-১৪৫ দিন। খরা অবস্থায় একটি মাত্র সেচ প্রয়োগে (ফল আসার আগে) জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.১-৮.৫ টন এবং স্বাভাবিক সেচ প্রয়োগে ফলন হেক্টরপ্রতি ১০-১১.১ টন।

পড়তে পারেন: নতুন ফসল চিয়ার কেজি ৫’শ টাকা, ভাগ্য বদলাচ্ছে কৃষকের!

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৩: ২০১৬ সালে বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৩ অবমুক্ত করা হয়। জাতটি স্বল্প সেচে উৎপাদনক্ষম এবং মধ্যমাত্রার খরা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল সাদা দানা বিশিষ্ট। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪৫-১৫২ দিন। খরা অবস্থায় একটি মাত্র সেচ প্রয়োগে (ফল আসার আগে) জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.২-৮.৯ টন এবং স্বাভাবিক সেচ প্রয়োগে ফলন হেক্টরপ্রতি ১০.১-১১.২ টন।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৪: ২০১৭ সালে বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৪ অবমুক্ত করা হয়। জাতটি খরিফ মৌসুমে ফুল আসার পর্যায়ে অধিক তাপ সহিষ্ণু এবং মধ্যম ফলন ক্ষমতা সম্পন্ন। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ১১৫ দিন। জাতটি দানা সাদা বর্ণের এবং সেমি ডেন্ট প্রকৃতির। জাতটি পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন রবি মৌসুমে ১০.৮৪ টন এবং খরিফ মৌসুমে ১০.৫২ টন।

আরও পড়ুন:জেনে নিন পুষ্টিকর লালশাকের সহজ চাষ পদ্ধতি

বারি মিষ্টি ভুট্টা-১: ২০০২ সালে থাইল্যান্ড থেকে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম হতে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জাতটি নির্বাচন এবং অনুমোদিত হয়। মিষ্টি ভুট্টা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয়। তাই দানা যখন নরম থাকে তখনই মোচা সংগ্রহ করতে হয়। সিল্ক বের হবার ২০-২৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ বপনের মাত্র ১১৫-১২০ দিনে খাওয়ার উপযোগী মোচা সংগ্রহ করা যায়। এর হলুদ দানা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ। জাতটির ফলন রবি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ১০-১০.৫ টন (খোসা ছাড়ানো কচি মোচা) এবং প্রায় ২৫টন/হেক্টর সবুজ গো-খাদ্য পাওয়া যায়।

অধিক ফলন পেতে ভুট্টার যেসব জাত নির্বাচন করবেন শিরোনামে লেখাটি কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে সংগ্রহ করা  হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ