নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের উপকূলের আরও কাছে এসেছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। এজন্য দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত নামিয়ে এর পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৭) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গভীর নিম্নচাপটির গতি এখন যেভাবে আছে, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে সেই গতিতে এগোতে থাকলে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে বলা হচ্ছে, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে সেটি বুধবার বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়া উপজেলা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম পড়তে পারে।

এটি ঘূর্ণিঝড় হামুনে পরিণত হলে সেটি হবে চলতি বছরের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। এর আগে গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় মোখা দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রভাব ফেলেছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে হামুন নামটি ইরানের দেওয়া। যার অর্থ হচ্ছে সমতল ভূমি বা পৃথিবী।

তবে এর গতিপথ কেমন হবে এবং বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা আছে কিনা এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি বলেন, “গভীর নিম্নচাপটি শক্তি অর্জন করতে করতে ক্রমশ উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আজ সন্ধ্যা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে তার গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে এবং গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”

তার মতে, ঘূর্ণিঝড় অনেক সময় এর গতিবেগ ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বা একই জায়গায় আবর্তন করতে পারে। সুতরাং উপকূল অতিক্রমের সময় এদিক ওদিক হতে পারে।

এদিকে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোয় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া নিম্নচাপের কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

আগামী দুই-তিন দিন চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকা সেইসাথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হতে পারে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ/২০২৩