
ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আগাম জাতের আলু বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষেত থেকে আলু সংগ্রহ শুরু করছেন চাষিরা।
চলতি বছর আগাম আলু উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ভাঙার আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ। এসব আগাম আলু ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি বছর ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। চাষিরা ভালো দাম পেলে আগামীতে আগাম আলু চাষে উৎসাহিত হবেন। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
চাষি কালাম হোসেন জানান, তিন বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি ভালো দামের আশায়। জমি উঁচুতে হওয়ায় আশ্বিন, কার্তিক মাসের বৃষ্টিতে আলুর ক্ষতি হয়নি। এখন আলু তুলছি। বিঘায় (৫০ কেজির বস্তা) ১০-১২ বস্তা হতে পারে। আশা করি, এতে খরচ বাদে দ্বিগুণ লাভ হবে।
আরেক চাষি বলেন, দেড় বিঘা জমির আগাম আলু তুলেছি। ভালো ও বড় আলুর কেজি ৮০ টাকা আর একটু ছোট আলুর কেজি ৭০ টাকা বিক্রি করছি।
একই এলাকার চাষি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। এর মধ্যে চার বিঘায় লাগিয়েছি আগাম জাতের আলু। ৬১ দিনের মাথায় আগাম আলু তুললাম। চার বিঘায় ২৫ বস্তা আলু হয়েছে। এখনও বিক্রি করিনি। ভালো দাম পেলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।
বর্তমানে বাজারে নতুন আলু আসছে জেলা সদরের কচুকাটা, সোনারায় বাবড়িঝাড়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী, উত্তর দুরাকুটি ও নিতাই ইউনিয়ন থেকে। এসব আলুর কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার জেলায় আগাম জাতের আলু আবাদ হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। ওসব জমির আগাম আলু তুলে সেখানে আবার আলু চাষ করবেন চাষিরা। এবার জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এবার ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষাবাদ হয়েছে। ৫৫-৬০ দিনের মাথায় আলু তুলতে শুরু করেছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলনের আশা করছি। চাষিরা ভালো দাম পেলে আগামীতে আরও বেশি আগাম আলু চাষ হবে। চলতি বছর আগাম
আলু উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ভাঙবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























