ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ছাদবাগানে ফলগাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সীমিত জায়গায় সহজ পরিচর্যায় ফল পাওয়া যায় এমন গাছের মধ্যে ড্রাগন ফল এখন অনেকের পছন্দের তালিকায়। এটি ক্যাক্টাস জাতীয় উদ্ভিদ, বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus। উৎপত্তি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য না মিললেও দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকাকে এর আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয়।

পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলে ভিটামিন সি, বি–১, বি–৩, বি–৬, লাইকোপেন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান দেহের ক্ষতিকর উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে, লিভারের জন্য উপকারী এবং শিশুদের জন্যও স্বাস্থ্যসম্মত। নিয়মিত খেলে ত্বকের আগাম বার্ধক্য কমাতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

ছাদবাগানে ড্রাগন চাষের প্রাথমিক ধারণা

ড্রাগন ফল তুলনামূলক সহজে চাষযোগ্য। নতুন বাগানিরাও সহজে চারা লাগিয়ে ফল পেতে পারেন। ছাদে বা মাটিতে চাষের জন্য ৮–১০ ইঞ্চি উচ্চতার সুস্থ চারা সংগ্রহ করা ভালো। সঠিকভাবে মাটি প্রস্তুত করে রোপণ করলে প্রায় ১০–১২ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে।

ছাদবাগান শুরু করতে চাইলে ফলগাছের মধ্যে ড্রাগন ভালো পছন্দ হতে পারে। স্বল্প খরচেও এটি চাষ করা যায়। এখানে ফলের ক্যারেট ব্যবহার করে ড্রাগন চাষের পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।

প্রথম ধাপ

একটি মজবুত ফলের ক্যারেট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সেখানে ড্রাগন লাগানোর উপযোগী মাটি প্রস্তুত করতে হবে।

মাটির মিশ্রণ

  • মাটি: ৩০%
  • কম্পোস্ট: ৩০%
  • বালু: ১৫%
  • কোকোডাস্ট: ১০%
  • হাড়ের গুঁড়া, শিং কুচি ও নিম খৈল: ১০%
  • জিপসাম ও ম্যাগসার: ৫%

সবশেষে কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২০–২৫ গ্রাম ছিটিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ

সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর নীল রঙের জালি নেট দিয়ে ক্যারেটের ভেতরের অংশ ঢেকে দিতে হবে, যাতে পানি দিলে মাটি বেরিয়ে না যায়।

তৃতীয় ধাপ

ক্যারেটের নিচে ২ ইঞ্চি কোকোডাস্টের স্তর, তার ওপর ১ ইঞ্চি বালুর স্তর দিতে হবে। এরপর প্রস্তুত করা মাটি দিয়ে ক্যারেট ভর্তি করতে হবে, তবে ওপরে প্রায় ৩ ইঞ্চি জায়গা খালি রাখতে হবে।

চতুর্থ ধাপ

মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। ক্যারেট রোদ বা ছায়া যেকোনো জায়গায় রাখা যায়। প্রতিদিন মাটি আর্দ্র রাখতে পানি দিতে হবে। ৪–৫ দিন পরপর হালকা নিড়ানি দিলে মাটির ভেতরের গ্যাস বের হতে সুবিধা হয়।

প্রায় ২০–২৫ দিন পর ভালো জাতের ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। বারি–৩, থাই রেড, পিংক রোজ উল্লেখযোগ্য জাত। রোপণের আগে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। চারা যতটুকু গভীরে পলিব্যাগে ছিল, ততটুকুই রোপণ করতে হবে। রোপণের পর হালকা পানি দিতে হবে।

ড্রাগন গাছের বৃদ্ধি ও ফুল–ফল

বছরের প্রায় সব সময় চারা লাগানো গেলেও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টা এড়িয়ে চলা ভালো। এ সময় গাছের বৃদ্ধি কম হয়। সাধারণত ১০–১২ মাস পর ফুল আসে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। উন্নত জাতের ড্রাগন স্ব–পরাগায়িত। ফুল সাধারণত সন্ধ্যার পর ফোটে।

ফুল ঝরে ফল সেট হওয়ার ২৫–৩৫ দিনের মধ্যে ফল পরিপক্ব হয়। পাকা ফল সম্পূর্ণ লাল রঙ ধারণ করে। তখন সংগ্রহ করা যায়।

অতিরিক্ত পরিচর্যা

পাত্রের নিচে ইট দিয়ে উঁচুতে রাখলে ছাদের অতিরিক্ত তাপ সরাসরি পাত্রে লাগে না। ড্রাগন গাছ তাপ সহনশীল হলেও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ বেশি হয়।

প্রতি ১৫ দিন পরপর

  • ম্যানকোজেবজাতীয় ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়।
  • বিকল্প হিসেবে কপার অক্সিক্লোরাইড ২ গ্রাম প্রতি লিটার হারে স্প্রে করা যায়।

প্রতি মাসে একবার প্রয়োজন মনে হলে কীটনাশক ব্যবহার করা যায়, না হলে প্রয়োজন নেই।

৭–১০ দিন পরপর নিম খৈল ভেজানো পানি গাছের গোড়ায় দিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।

গাছে বেশি ডাল বের হলে সেগুলো নিচের দিকে হেলিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে সুতা দিয়ে বেঁধে রাখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঝুলন্ত ডালে বেশি ফুল আসে।