আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী): রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার চরে পেঁয়াজ চাষ করে স্বপ্ন দেখছেন সুজন আলী। চরে পেঁয়াজ চাষে বিপ্লব হবে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার সকালে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরে খায়েরহাট এলাকার কৃষক সুজন আলী লেবার দিয়ে পেঁয়াজের জমি পরিচর্যা করছিলেন। সুজন আলী খায়েরহাট এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে।

এ সময় তিনি জানান, চলতি মৌসুমে পদ্মার পানি আগে নেমে যাওয়ায় পেঁয়াজ আগাম রোপণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাজারমূল্য ভালো পাবেন বলে আশা করছেন। তবে অসময়ে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে কিছু রোপন করা পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। দু/তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছি। তারপরও গত বছরের মতো দাম পেলে লাভ হবে।

তিনি জানান, তিনি পদ্মার চরে এক বছরের জন্য ৪ বিঘা জমি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বীজ, সার, লেবার চাষ বাবদ আরো ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজ জমি থেকে উঠাবেন।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে ভাটা, ফের কমলো দাম

ক্রেতা সংকটে পেঁয়াজের কেজিতে কমলো ৪ টাকা

পেঁয়াজের নতুন দুই জাত উদ্ভাবন, হেক্টরে ফলন ১০ টন

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে দুই হাজার হেক্টর। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরে। আগাম পেঁয়াজ চাষিরা ভালো ফলন ও বেশি দাম পাবেন আশা করছেন। পদ্মার চরের পেঁয়াজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজচাষি গোলাম মোস্তফা জানান, এবার পদ্মার পানি আগে নেমে যাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে আগাম পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে

গত বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে বাজারমূল্য পেয়েছিলেন কেজি প্রতি ৩৫-৪০ টাকা। এবারও আশা করছেন ওই দামই পাবেন। বর্তমান বাজারে নতুন পেঁয়াজ পাইকারি হিসেবে ৩০-৩৫ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, এ বছর উপজেলায় সর্বত্রই কমবেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার সমতল এলাকার চেয়ে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় পদ্মার চরে। তবে পেঁয়াজ চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ