
প্রতিনিধি (বাঘা) রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দক্ষিণে পদ্মার চরে বন্যা পরবর্তী সময় পলিবেষ্ঠিত বেলে-দোআঁশ মাটিতে ফলছে সোনা। স্থানীয় চাহিদা পূরণ ছাড়াও উৎপাদিত সবজি যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে।
উপজেলার নদী তীরবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর, দাদপুর, কালিদাসখালী, কলিগ্রাম, টিকটিকি পাড়া, করারি নওসারা, সরের হাট, চাঁদপুর এসব চরে এবার চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। ফলছে আলু ,বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাও, মিষ্টি কুমড়া, সিম, করলা, পুঁই ও লালশাক-সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি।
এরমধ্যে সম্প্রতি রোপনকৃত পেঁয়াজ ও রসুন চাষে এবার আবহাওয়াগত কারণে বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষক। পাশাপাশি চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে গম, ছোলা, ভুট্টা, মসুর , সরিষা ও চিনা বাদাম।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লা সুলতান বলেন, চরের জমি খুবই উর্বর। এখানে লক্ষমাত্রার চেয়ে যেকোনো ফসল বেশি পরিমাণ চাষাবাদ হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মাঝে ফসল ফলানোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তারমতে, নদীর রূপরেখা পাল্টে যাওয়ায় সবুজের নীরব বিপ্লব ঘটেছে চরাঞ্চলে।
তিনি জানান, এই অঞ্চলে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সরেজমিন ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করে বালাই নাশক পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সবসময় সাহায্য করছে উপজেলা কৃষি অফিস।
কৃষকরা জানান, এক সময় চরাঞ্চলের জমিতে শুধু ধান, গম আর আখ চাষ করা হতো। কিন্তু এখন সেই জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে, আম বাগান, পেয়ারা বাগান, বরই বাগান, কলা বাগান-সহ হরেক রকম সবজি চাষ। বিশেষ করে প্রতি শীত মৌসুমে নদী বিধৌত চরাঞ্চল জুড়ে লক্ষ করা যায় হরেক রকম সবজি। যার ব্যতিক্রম ঘটেনি এবারও। এ অঞ্চলের কৃষকরা বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে নানা প্রকার সবজি চাষাবাদ করে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানি করছে ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
পলাশি ফতেপুরের কৃষক আনোয়ার শিকদার জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে শীতকালীন শাকসবজি হিসাবে কফি ও বেগুন চাষ করছেন। এগুলো আবাদের আগে জমিতে লাঙ্গলের পরিবর্তে বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হয়েছে। এর ফলে চাষাবাদের খরচ কমেছে। তবে সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে শ্যালো মেশিন। কিন্তু এবার ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় সেচ খরচ বেশি পড়ছে।
কৃষক মুস্তাফিজুর মাস্টার বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ এক বিঘা জমিতে রসুন রোপণ করেছি। পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে বেগুন করেছি। বর্তমানে নতুন গাছের বেগুন থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পেঁয়াজ-রসুনেও এবার লাভবান হবো।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























