অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল ক্রেতা। এতদ্বাসতত্ত্বেও পাম অয়েল আমদানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাম অয়েল আমদানিতে রেকর্ড গড়তে পারে দেশটি। গত ডিসেম্বরে আমদানি এক বছরের ব্যবধানে ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।

মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলগুলোর বিপরীতে ব্যাপক মূলছাড়ের কারণে দেশটির পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় পণ্যটির চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

দেশটির ঊর্ধ্বমুখী আমদানি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াকে ক্রমবর্ধমান মজুদ কমাতে সহায়তা করছে। িপাশাপাশি বিষয়টি পণ্যটির দামও বাড়িয়েছে। বর্তমানে পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামে এটি লেনদেন হচ্ছে।

গত মাসে ভারতের পাম অয়েল আমদানি ১১ লাখ টনে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় বাড়লেও বিদায়ী বছরের নভেম্বরের তুলনায় আমদানি কিছুটা কমেছে। ওই সময় দেশটি ১১ লাখ ৪০ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করেছিল।

জিজিএন রিসার্চের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ প্যাটেল বলেন, পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দামের ব্যবধান স্বাভাবিক বাজার প্রবণতার তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। তবে ধীরে ধীরে এ ব্যবধান কমছে।

ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য ক্রেতারা বেশির ভাগ ক্রয়াদেশই নভেম্বরে ইস্যু করেন। তখন প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ছিল প্রায় ৪৬০ ডলার। একই সময় সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল এর চেয়ে অনেক বেশি দামে লেনদেন হয়েছে।

ডিলাররা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটিতে পাম অয়েল ও পাম ফলের মজুদ ব্যাপক বেড়ে যায়। মজুদকৃত এসব পাম অয়েল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দেশটির প্রধান লক্ষ্যই ছিল মজুদ লক্ষণীয় মাত্রায় কমানো। এজন্য রফতানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ে দেশটি ভারতের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করে।

সাধারণত শীতের মাসগুলোয় ভারতে পাম অয়েল আমদানি ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ডিলারদের করা প্রাক্কলন অনুযায়ী, বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পণ্যটির আমদানি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ টনে।

ভোজ্যতেলের ব্রোকার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সন্দীপ বাজোরিয়া বলেন, অন্যান্য ভোজ্যতেলের তুলনায় বর্তমানে পাম অয়েলে মূল্যছাড়ের পরিমাণ কমে টনপ্রতি ৩০০ ডলারে নেমেছে। এর পরও ভারতের ক্রেতারা পাম অয়েলকেই আমদানির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এদিকে ডিসেম্বরে বাড়লে চলতি মাসে আমদানি কমে ৮ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে বলে ধারণা করছেন ডিলাররা। তারা বলছেন, গত মাসে ভারতের সয়াবিন তেল আমদানি এক বছরের ব্যবধানে ৩৬ শতাংশ কমে ২ লাখ ৫২ হাজার টনে নেমেছে। এছাড়া সূর্যমুখী তেল আমদানি ২৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমেছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ