নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঈদ সামনে, বাজারে চাহিদা বাড়ছে—কিন্তু তাতেও স্বস্তি নেই পোল্ট্রি খামারিদের। বরং তাদের অভিযোগ, ভোক্তা উচ্চ দামে মুরগি কিনলেও সেই অর্থের বড় অংশই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। ফলে উৎপাদন খরচ সামলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—ঈদের পর কি কাটবে এই সংকট, নাকি আরও গভীর হবে খামারিদের দুর্দশা?

খামারিদের দাবি, বর্তমানে পাইকারি বাজারে খামারিরা প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। অথচ সেই একই মুরগি ঢাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে। অর্থাৎ ভোক্তা যে দামে মুরগি কিনছেন, তার বড় অংশই খামারিদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না।

জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের খামারি জাহাঙ্গির আলম বলেন‌, ‘বর্তমানে মুরগি বিক্রি করে দাম পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এর বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সেই মুরগিই বাজারে ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা পুরোটা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।’

এই দামে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান খামারিরা। তাদের হিসাবে, বর্তমান বাজারদরে এক হাজার মুরগি বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে মাত্র এক থেকে দুই হাজার টাকা। অর্থাৎ বিপুল বিনিয়োগের তুলনায় এই লাভ অপ্রতুল, অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের কাছাকাছি।

খামারিদের দাবি, যদি তারা প্রতি কেজিতে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দাম পেতেন, তাহলে অন্তত চলমান ক্ষতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু বাজার ব্যবস্থার কারণে সেই সুযোগও মিলছে না।

প্রান্তিক খামারিদের অভিযোগ, তারা এখন কার্যত একটি সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করলেও উৎপাদকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্যমূল্য থেকে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক খামারি উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাঙ্গির আলম বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকলে এবং এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে একসময় ছোট খামারগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন পোল্ট্রি খাত ধীরে ধীরে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের ওপরও—মাংস ও ডিম কিনতে গুনতে হবে আরও বেশি দাম।

এ অবস্থায় খামারিরা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। না হলে ঈদের পরও তাদের এই দুর্দশা কাটবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।