
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মিষ্টি পানির তীব্র সংকট ও মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা—এই দুই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়েই সাতক্ষীরার কৃষকেরা বোরো ধান আবাদ করছেন। তবে এবার চাষিদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য। এমন পরিস্থিতিতে লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলের কৃষকদের আগাম আবাদ এবং লবণসহিষ্ণু ধানের জাত চাষের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগরঘেঁষা সাতক্ষীরা জেলার বড় একটি অংশ বছরের বেশিরভাগ সময় লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে নদী-খাল ও চিংড়িঘেরের লোনা পানির প্রভাবে স্বাভাবিক চাষাবাদ ব্যাহত হয়। তবুও জীবিকা টিকিয়ে রাখতে লবণাক্ত মাটির সঙ্গেই লড়াই করে বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মার্চ-এপ্রিলের শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে লবণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা ধান চাষে বড় বাধা। সেই ঝুঁকি এড়াতে এবার কৌশল বদলেছেন তারা। বর্ষায় জমে থাকা খালের মিষ্টি পানি ব্যবহার করে দ্রুত ফসল ঘরে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপও কমে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাভা গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আগাম চাষের ফলে মার্চ-এপ্রিলের আগেই ধান পেকে যায়, ফলে লোনা পানির ক্ষতি থেকে ফসল বাঁচানো যায়। খালে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ব্যবহার করতে পারায় এবার সেচ খরচও কিছুটা কম হয়েছে।’
তবে আগাম আবাদ শুরু হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা কমেনি। তাদের অভিযোগ, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম না পেলে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।
সদরের ফিংড়ি এলাকার কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার চাষের খরচ অনেক বেশি। ডিজেল আর সারের দাম বাড়ায় সেচ দিতেই কষ্ট হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চাষ করছি, কিন্তু বাজারে ধানের দাম ঠিক না পেলে লোকসান গুনতে হবে।’
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষায় আমরা কৃষকদের আগাম চাষে উৎসাহিত করছি। বিশেষ করে লবণাক্ত এলাকায় ব্রি ধান-৬৭, ৯৭, ৯৯ ও বিনাধান-১০ চাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কিছু এলাকায় উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ধান চাষের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
























