
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: এক একটি ঘেরে প্রতিদিন ৬০০ কেজি থেকে এক মেট্রিক টন চালের ভাত রান্না করে খেতে দেয়া হয় মাছকে। তবে বিষয়টি অভিনব হলেও এটাকে অবৈজ্ঞানিক বলছেন মৎস্য অধিদফতর।
জেলা মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্য মতে, যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মৎস্য ঘের রয়েছে। এই দুই উপজেলায় মাছ চাষে খাদ্য হিসেবে ভাতের এ অভিনব ব্যবহার শুরু করেছেন খামারিয়া। খামারিদের দাবি, ভাত খাওয়ালে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
দেখা যায়, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শ্যামনগরে সড়কের পাশে বিশাল আকারের ‘তাফালে’ চলছে ২০০ কেজি চালের ভাত রান্না। ভোর ৬টায় শুরু হওয়া রান্না শেষ হতে হতে সকাল সাড়ে ৮টা। আড়াই ঘণ্টা সময় নিয়ে কোনো মেজবানের উদ্দেশে নয়, মূলত ঘেরে চাষের মাছকে খেতে দিতে চলছে এ কর্মযজ্ঞ। প্রতিদিন এভাবে ৩-৪ দফায় ৬০০ থেকে এক মেট্রিক টন চালের ভাত রান্না করে ঘেরে ছিটানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মণিরামপুর উপজেলার বিল হরিণায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘের তৈরি করে চলছে মাছ চাষ। এসব ঘেরে রুই, কাতল, সিলভার কাপ, গ্লাসকাপ, মৃগেল, তেলাপিয়া, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ হয়। গত কয়েক বছর ধরে এসব ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাত। অবশ্য ভাতের পাশাপাশি ঘেরে অন্যান্য খাবারও দেয়া হয়।
খামারিদের দাবি, ভাত খাওয়ালে উৎপাদন খরচ কম লাগে; সে সঙ্গে অল্প সময়ে মাছের উৎপাদন বেশি হয়। এজন্য তারা মাছকে ভাত খাওয়াচ্ছেন।
তারা আরও দাবি করেন, যে চাল তারা ব্যবহার করছেন তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। কেবল মণিরামপুর নয়, পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলায়ও মাছের ঘেরে একইভাবে মাছকে ভাত খাওয়ানো হয়।
শ্যামনগরের একটি ঘেরের ম্যানেজার রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, আমরা মাছের জন্য প্রতিদিন ৬০০ কেজি চালের ভাত রান্না করি। তিন দফায় রান্না করা ভাত নৌকায় ভরে পুরো ঘেরে ছিটিয়ে দেই। এ ভাত খাওয়ার ফলে মাছ দ্রুত বাড়ে।
আজিজুর রহমান নামে অপর এক ঘেরের ম্যানেজার বলেন, ভাত খাওয়ালে মাছ দ্রুত বাড়ে। উৎপাদনও ভালো হয়। এজন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাছকে ভাত খাওয়াই। আমাদের ১০০ একরের এ ঘেরে প্রতিদিন ৬০০ কেজি চালের ভাত ছিটানো হয়।
গড়ভাঙা গ্রামের কামরুল বিশ্বাসের ঘেরের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিদিন এক মেট্রিক টন চালের ভাত রান্না করে মাছকে খাওয়াই। পাশাপাশি খৈল, ভুট্টা ও গম ছাড়াও বাজার থেকে কেনা ফিসফিড দেই। মাছকে ভাত খাওয়ানোর ফলে তিন মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রতি মাসে মাছ বিক্রি করা যায়। আগে সেটা সম্ভব হতো না।
সুব্রত ঢালী নামে অপর এক খামারি বলেন, শুধু বিল হরিণা নয়, আশপাশের ২৭ বিলের সব ঘেরেই মাছকে ভাত খাওয়ানো হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার ঘেরগুলোতেও মাছকে ভাত খাওয়ানো হচ্ছে।
এদিকে, বিষয়টি অভিনব হলেও মাছকে ভাত খাওয়ানোটা অবৈজ্ঞানিক বলে উল্লেখ করেন যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুটি উপজেলায় খামারিরা মাছকে ভাত খাওয়াচ্ছেন শুনেছি। ভাত হচ্ছে শর্করা। শর্করা খাইয়ে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। আর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ না হলে মাছের উৎপাদনও কম হয়। তাছাড়া মাছকে ভাত খাওয়ালে চালের ওপর এক সময় প্রভাব পড়বে। এজন্য খামারিদের আমরা নিরুৎসাহিত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাত কোনো অপদ্রব্য না। ফলে পরামর্শ দেয়া ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ/২০২৩
























