
স্টাফ রিপোর্টার, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব হলেও সরকার একা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এ জন্য প্রাণিস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
‘সুস্থ প্রাণী, সমৃদ্ধ জাতি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে আয়োজিত অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব)-এর ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক এক্সপো–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, উদ্যোক্তারা শুধু বিনিয়োগই করছেন না, বরং প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রাণিস্বাস্থ্যকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। মাছ, গবাদিপশু কিংবা পোল্ট্রি—সব ধরনের প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের মূল শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট প্রাণীর সুস্থতা নিশ্চিত করা।
তিনি ওয়ান হেলথ (One Health) ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিনের সমন্বিত সুস্থতার মাধ্যমেই টেকসই স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও বলেন, শুধু প্রাণী মোটাতাজাকরণ নয়, প্রাণী যে খাদ্য গ্রহণ করছে তা নিরাপদ ও পুষ্টিকর কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রাণিখাদ্য ও মাছের খাদ্যের কাঁচামাল কোথা থেকে আসছে এবং সেগুলোর মান কেমন—এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কৃষি খাতের সঙ্গে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। ভুট্টা, সয়াবিনসহ প্রাণিখাদ্যের উপাদান আমদানিনির্ভর না হয়ে দেশেই উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
প্রাণিস্বাস্থ্য ও নিউট্রিশন শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান থাকা সত্ত্বেও ওষুধ উৎপাদন ও আমদানিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান আইন দিয়ে প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের নেওয়া প্রাণিস্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হলে মানব স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত হয়। তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে প্রাণী ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য আলাদা ড্রাগ আইন ও কর্তৃপক্ষ রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্ডিন্যান্স আকারে অনুমোদনের জন্য দ্রুত উপস্থাপন করা হবে।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক। এ সময় সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় রয়েছে ১২৮টি বিদেশি স্টল ও ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করছে। এগ্রিকেয়ার২৪.কম:/ আরিফ
























