ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
শীতের মৌসুম শুরু না হলেও ‘সবজি ভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পালংশাক ও শিমের চারা।

শরতের শেষদিকের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকার বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তারা। অল্প সময়ে ও কম খরচে এই আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টরপ্রতি সাড়ে ১৭ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে দেড়শ কোটি টাকারও বেশি।

বগুড়া সদরের পীরগাছা এলাকার কৃষক আমিনুর প্রামাণিক জানান, তিনি সারা বছরই সবজি চাষ করেন। এবারও ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমসহ বিভিন্ন সবজি লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগাম সবজির চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে এবার বৃষ্টি বেশি হওয়ায় অনেকের আবাদ নষ্ট হয়েছে, তারা আবার নতুন করে চাষ শুরু করেছেন।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় যে খরচ হয়, মাঠ থেকেই পাইকারদের কাছে প্রায় দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি করা যায়। এ কারণেই তারা আগাম সবজি চাষে বেশি আগ্রহী।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টি কিছুটা বেশি হওয়ায় খরিপ-২ মৌসুমের সবজি চাষ সামান্য বিঘ্নিত হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “আগাম জাতের সবজি চাষে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”