
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) বগুড়ার বাফার গুদামে নকল সন্দেহে দুইদফায় ১৭ ট্রাক টিএসপি সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ হওয়া ১৭ ট্রাকে ৪ হাজার ৭৬০ বস্তায় ২৩৮ টন সার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে জব্দকৃত সার পরীক্ষার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির তিন সদস্য গতকাল বগুড়ায় পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
রোববার গভীর রাত ও সোমবার রাতে এসব সার জব্দ করা হয়েছে। বাফার গুদামের কর্মকর্তারা বলছেন, গোপন সংবাদ থাকায় ও নকল সন্দেহে আপাতত এ সার আটকে রাখা হয়েছে। সার খালাস করা হচ্ছে না। পরীক্ষার পর সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্সের উপপ্রধান রসায়নবিদ রেজাউল হক, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আউয়াল হোসেন। গতকাল দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সারের নমুনা সংগ্রহ করেন।
পড়তে পারেন: সারে কারসাজি ৩৮৩ ডিলার-ব্যবসায়ীকে ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা
বগুড়া বাফার সূত্র বলছে, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার টিএসপি সার কারখানা থেকে সাতটি ট্রাকবোঝাই করে বগুড়ায় পৌঁছে সার। এ সময় সারগুলো নকল ও ভেজাল মনে হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। এরপর সারসহ সাতটি ট্রাক আটক করে রাখা হয়েছে।
প্রতিটি ট্রাকে ২৮০টি বস্তা করে সাতটি ট্রাকে ৯৮ হাজার কেজি টিএসপি সার রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে একই স্থান থেকে আরো ১০ ট্রাক সার আসে। সেগুলোও নকল সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরে আসা ওই ১০ ট্রাকে ১৪০ টন সার রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭ ট্রাকে ৪ হাজার ৭৬০ বস্তায় ২৩৮ টন সার রয়েছে।
বগুড়ার বাফার গুদামের ব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি চট্টগ্রাম টিএসপি সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পর সারগুলো পরীক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে তিন সদস্যের একটি টিম বগুড়ায় এসেছে। পরীক্ষার পর সারগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে। সারগুলোর পরিবহন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএইচআর করপোরেশন।
পড়তে পারেন: সার বিষয়ে যে কোন তথ্য জানতে কল দিন
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানান, বগুড়া বাফার গুদামে অভিযোগ আসে, চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে টিএসপি সার বগুড়া বাফার দিকে রওনা দেয়। পথে কোনো এক জায়গায় ওই সারভর্তি ট্রাক থেমে ভেজাল বা নকল সার ভর্তি করে বগুড়ার দিকে যাচ্ছে। এমন সংবাদে বগুড়া বাফার ইনচার্জকে সার গুদামে না ঢোকানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সারের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহীতে সংশ্লিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সারের বস্তাগুলোর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হওয়ায় বগুড়া বাফার গুদাম থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি আমরা বগুড়ায় এসেছি। আমরা সারের বস্তাগুলো দেখছি, ভিন্নতা আছে কিনা তা পরীক্ষা চলছে।
যেহেতু এগুলো কেমিক্যাল, তাই আমরা সারের নমুনা নিয়ে যাব। আমাদের ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা করব। পরীক্ষা শেষে আগামী তিনদিনের মধ্যে ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরীক্ষা করলেই নকল নাকি ভেজাল মেশানো বা কতটা ভালো তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























