
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পাবনায় সরিষা চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে মধু আহরণের সম্ভাবনাও। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে বসানো মৌবক্স থেকে চলতি মৌসুমে ১১০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এর বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
তেলের চাহিদা ও দাম বাড়ায় জেলায় প্রতিবছরই সরিষা চাষ বাড়ছে। তেল উৎপাদনের পাশাপাশি সরিষা এখন মধু আহরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলার ৯টি উপজেলায় সরিষা জমির পাশে মৌবক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যে জানা যায়, আবাদি জমি কমে যাওয়ায় গত দু’বছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও সরিষা চাষের পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর জেলায় ৪৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। এ বছর হয়েছে ৪৫ হাজার ৭০ হেক্টরে। এসব জমির পাশে সদর উপজেলায় ৭৮৮, আটঘরিয়ায় ২০০, ঈশ্বরদীতে ৪৫০, চাটমোহরে ৩ হাজার ২৫০, ভাঙ্গুড়ায় ৬ হাজার ১২০, ফরিদপুরে ১ হাজার ৭৫, বেড়ায় ২০০ এবং সাঁথিয়ায় ১০০টিসহ মোট ১২ হাজার ১৮৩টি মৌবক্স বসানো হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ হাজার। এ বছর ২২৬ জন মৌচাষি মধু আহরণে যুক্ত আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌবক্স বসানো শুধু মধু সংগ্রহের জন্য নয়, এতে পরাগায়ন বাড়ে এবং সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়। ফলে সরিষা চাষিরাও লাভবান হন। বাজারে সরিষা ফুলের খাঁটি মধুর চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাচ্ছেন মৌচাষিরা। অনেক ক্রেতা সরাসরি জমিতে গিয়ে মৌবক্স থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। প্রতি কেজি গড়ে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় হতে পারে। কোথাও কোথাও ৫০০ টাকা কেজিতেও মধু বিক্রি হচ্ছে।
মৌচাষিরা জানান, প্রতিটি বক্সে প্রায় এক লাখ কর্মী মৌমাছি ও একটি রানি মৌমাছি থাকে। তারা সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। আট থেকে দশ দিন পরপর একটি বক্স থেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের মৌচাষি সোহাগ ও রমজান বলেন, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত সরিষা, লিচু ও তিলের জমিতে বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয়। অন্য সময়ে মৌমাছি পালন করতে হয়। তারা জানান, এ পর্যন্ত কয়েক দফায় ৮ মণ, ১৫ মণ করে মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি দফায় প্রায় ২০ মণ পাওয়ার আশা করছেন।
তারা আরও বলেন, পুরো মৌসুমের হিসাব এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেকে জমিতে এসে মধু নিয়ে যান, আবার ড্রামে করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়।
সদর উপজেলার গয়েশপুর, দোগাছি ও ভাঁড়ারাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও মৌবক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ চলছে। মধু চাষি হানিফ বলেন, মৌচাক কাটার সময় উপস্থিত থেকে সংগ্রহ না করলে খাঁটি মধু পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই জমিতে এসে সরাসরি বক্স থেকে মধু নিচ্ছেন। এতে এ মধুর কদর বেশি। শুরুতে অনেক সরিষা চাষি মৌবক্স বসাতে না চাইলেও এখন ফলন বাড়তে দেখায় তারা আগ্রহী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও সদর উপজেলায় সরিষা আবাদ বেশি। ফলে এসব এলাকায় মধু আহরণও বেশি হয়। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহ চলবে। মৌচাষিদের মৌবক্স সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
























